বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিমাংশু দত্তের ২৬ বছরের কর্মজীবনের অবসান, ব্যতিক্রমী আয়োজনে বিদায় উখিয়ায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে সর্বজনীন শ্রী শ্রী গণেশ পূজা সম্পন্ন একটি মাছের জন্য ভিক্ষা চেয়েছিলেন সুশীলা রানী, শেষ পর্যন্ত পেলেন মানুষের ভালোবাসা রাস্তা দখল করে ঘর নির্মাণের অভিযোগ, প্রতিকার চেয়ে থানায় আশু নাথ চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের ছবি শেয়ার করে ওমর সানির আবেগঘন বার্তা চট্টগ্রামবাসীর উদ্দেশ্যে দীপক কুমার পালিতের আবেগঘন বার্তা দুর্গাপূজায় শান্তি-সম্প্রীতি রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ রাউজান নরসিংদীতে মণি চক্রবর্তী হত্যা নয় মাস পর প্রধান আসামিসহ আটক ২ ভক্তি ভরে বাড়িতে গণেশপূজা করলেন লিটন দাস দুমকিতে মন্দিরের ১৫০ বছরের পুরোনো পিতলের গোবিন্দ প্রতিমা উদ্ধার

একটি মাছের জন্য ভিক্ষা চেয়েছিলেন সুশীলা রানী, শেষ পর্যন্ত পেলেন মানুষের ভালোবাসা

  • প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরগুনা প্রতিনিধি

 

বরগুনার পাথরঘাটায় জীবনের কঠিন বাস্তবতার এক হৃদয়স্পর্শী চিত্র উঠে এসেছে বৃদ্ধা সুশীলা রানীর মাধ্যমে। একটি মাছের জন্য মানুষের কাছে ভিক্ষা চাওয়া তাঁর অসহায় মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি ব্যাপকভাবে মানুষের নজরে আসে। ভিডিওটি দেখে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং একজন অসহায় বৃদ্ধার জীবনসংগ্রাম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

 

জানা যায়, পাথরঘাটার একটি খালে নেমে মাছ সংগ্রহের চেষ্টা করছিলেন বৃদ্ধা সুশীলা রানী। একপর্যায়ে একটি মাছের জন্য তিনি সেখানে থাকা কয়েকজন মানুষের কাছে অনুরোধ করেন। কিন্তু তাঁর সেই অনুরোধ পূরণ হয়নি। অসহায় অবস্থায় মাছের জন্য তাঁর আকুতি ক্যামেরাবন্দী হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

 

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই সুশীলা রানীর কষ্ট ও অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে তাঁর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। তবে ঘটনাটি কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনা কিংবা আবেগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি।

 

সুশীলা রানীর কষ্টের কথা জানতে পেরে কয়েকজন মানবিক যুবক তাঁর পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেন। তাঁরা তাঁর জন্য নিয়ে যান তাঁর প্রিয় ইলিশ মাছ। পাশাপাশি পরিবারের প্রয়োজনীয় নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজারসামগ্রী এবং আর্থিক সহযোগিতাও প্রদান করেন।

 

সহযোগিতা পেয়ে সুশীলা রানীর মুখে স্বস্তির ছাপ ফুটে ওঠে। হয়তো একটি মাছ, কিছু বাজারসামগ্রী কিংবা সামান্য আর্থিক সহায়তা অনেকের কাছে বড় কোনো বিষয় নয়। কিন্তু একজন অসহায় মানুষের জীবনে প্রয়োজনের মুহূর্তে এই সামান্য সহযোগিতাই হয়ে উঠতে পারে অনেক বড় পাওয়া।

 

সুশীলা রানীর ঘটনাটি যেন আবারও মনে করিয়ে দিল—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো মানুষের কষ্টের ছবি বা ভিডিও দেখে সহানুভূতি প্রকাশের পাশাপাশি বাস্তবে তাঁর পাশে দাঁড়ানোর মধ্যেই মানবিকতার প্রকৃত সৌন্দর্য।

 

যে যুবকেরা সুশীলা রানীর অসহায়ত্বকে শুধু একটি ভিডিও হিসেবে দেখেননি, বরং তাঁর প্রয়োজনের সময়ে সরাসরি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন, তাঁদের এই উদ্যোগ প্রশংসার দাবি রাখে। তাঁদের এই মানবিক কর্মকাণ্ড সমাজের অন্যদেরও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে উৎসাহিত করবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

 

হাজারো দুঃসংবাদ আর হতাশার ভিড়েও এমন কিছু ঘটনা মানুষের প্রতি মানুষের বিশ্বাসকে আরও শক্ত করে। সুশীলা রানীর জন্য বাড়িয়ে দেওয়া সেই হাত হয়তো খুব বড় কোনো আয়োজন নয়, কিন্তু তাঁর মতো একজন অসহায় মানুষের কাছে সেটিই হয়ে উঠতে পারে ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও আশার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews