
নিজস্ব প্রতিবেদক : সত্য সনাতন টিভি | অনলাইন সংস্করণ
পটুয়াখালীর দুমকিতে মন্দির থেকে চুরি যাওয়া প্রায় ১৫০ বছরের পুরোনো দুটি পিতলের গোবিন্দ প্রতিমা উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে দক্ষিণ রাজাখালী এলাকার বাসিন্দা তানভীর খান প্রতিমা দুটি দুমকি থানায় নিয়ে গিয়ে জমা দেন। পরে পুলিশ মন্দির কর্তৃপক্ষের সদস্যদের ডেকে প্রতিমা দুটি তাঁদের জিম্মায় বুঝিয়ে দেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার উত্তর রাজাখালী এলাকার চন্দ্র কুমার ফকির বাড়ির শ্রীশ্রী রাধা গোবিন্দ মন্দিরে গত ২৯ এপ্রিল রাতে চুরির ঘটনা ঘটে। পরদিন সকালে পূজা দিতে গিয়ে মন্দিরের মূল ফটকের তালা ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান মন্দিরের সভাপতি গোকুল গোস্বামীর মা জোৎস্না রানী।
মন্দির কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, চুরির সময় একটি পিতলের গোবিন্দ প্রতিমাসহ বেশ কিছু পিতলের পূজার সামগ্রী নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় মন্দিরের সভাপতি গোকুল গোস্বামী অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে দুমকি থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। তবে চুরি যাওয়া অন্যান্য সামগ্রীর কোনো হদিস এখনো পাওয়া যায়নি।
তানভীর খান পুলিশকে জানিয়েছেন, প্রায় তিন থেকে চার মাস আগে রাজাখালী সেতু এলাকায় তিনি প্রতিমা দুটি পড়ে থাকতে দেখেন। পরে সেগুলো পিরতলা বাজারের দোলা গ্লাস হাউজের মালিক বিপুলের কাছে ১ হাজার টাকায় বিক্রি করেন।
তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পরে বিপুল প্রতিমা দুটি পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের খামার ভবনের সহকারী খামার তত্ত্বাবধায়ক রবীন চন্দ্র শীলের কাছে ১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি করেন। এ সময় বিপুলকে দেওয়া ১ হাজার টাকা তানভীর ফেরত দেন।
প্রতিমা বিক্রির বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর তানভীর রবীন চন্দ্র শীলের কাছ থেকে প্রতিমা দুটি ফেরত নিয়ে সোমবার বিকেলে থানায় জমা দেন।
পুলিশ বলছে, মন্দির থেকে চুরি যাওয়ার পর প্রতিমা দুটি কীভাবে রাজাখালী সেতু এলাকায় পৌঁছাল, সে বিষয়ে তদন্ত প্রয়োজন। একই সঙ্গে চুরির ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কেউ প্রতিমা দুটি সেখানে ফেলে গিয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মন্দিরের সভাপতি গোকুল গোস্বামী বলেন, হারিয়ে যাওয়া প্রতিমা ফিরে পাওয়ায় তাঁরা আনন্দিত। এ ঘটনায় তাঁরা নতুন করে মামলা-মোকদ্দমায় যেতে চান না।
স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য সৈয়দ ইউসুফ কামাল বলেন, চুরি যাওয়া অন্য পূজার সামগ্রীও যাতে উদ্ধার হয়, সে জন্য পুলিশের কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করছেন তাঁরা।
দুমকী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম উদ্দীন বলেন, প্রকৃত চোর শনাক্ত হয়নি এবং বাদীপক্ষেরও কোনো দাবি না থাকায় উদ্ধার হওয়া প্রতিমা দুটি মন্দির কর্তৃপক্ষের হেফাজতে দেওয়া হয়েছে।