
নিজস্ব প্রতিবেদক : জয় দাশ | চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
চট্টগ্রামবাসীর উদ্দেশ্যে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা দীপক কুমার পালিত। দীর্ঘদিনের সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেছেন, মানুষের পাশে দাঁড়ানো তাঁর কাছে কোনো পদ-পদবির বিষয় নয়; এটি তাঁর নৈতিক ও মানবিক দায়বদ্ধতা।
এক বার্তায় দীপক কুমার পালিত বলেন, দায়িত্ব পাওয়ার পর বিশেষ করে ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার পরিস্থিতি তৈরি হলে তিনি মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন। সে সময় অনেকেই তাঁকে প্রশ্ন করেছিলেন ‘আমরা কি এই দেশে থাকতে পারব?’
জবাবে তিনি বলেছিলেন, ‘এই দেশ আমাদেরও। এই মাটিতে আমাদেরও রক্ত মিশে আছে।’
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে হিন্দু সম্প্রদায়ের ত্যাগ বাংলাদেশের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সংকটের সময় ঘরে বসে না থেকে তিনি চট্টগ্রামের বিভিন্ন গ্রাম, উপজেলা ও মহানগরের এলাকায় মানুষের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। তাঁর ভাষায়, ভয় নয়, ঐক্যই মানুষের শক্তি।
দীপক কুমার পালিত বলেন, তিনি এমন একটি বাংলাদেশ দেখতে চান, যেখানে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষের অধিকার ও মর্যাদা সমান থাকবে। করোনাভাইরাসের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, মহামারি কাউকে ধর্ম দিয়ে আলাদা করেনি; মানুষ হিসেবেই সবাইকে আক্রান্ত করেছে। তাঁর মতে, মানুষের তৈরি বিভাজন দূর করার দায়িত্বও মানুষেরই।
নিজের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকে রাজনীতির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দায়িত্ব পালনের পর তিনি জাতীয় স্বাধীনতা পার্টি, তৃণমূল বিএনপি এবং বর্তমানে বাংলাদেশ সমঅধিকার পার্টির অঙ্গসংগঠন বাংলাদেশ সংখ্যালঘু সমঅধিকারের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তবে তাঁর কাছে রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য পদ-পদবি নয়, বরং মানুষের অধিকার রক্ষা ও মানুষের পাশে দাঁড়ানো।
হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের দায়িত্ব পালনের সময় সীমিত বরাদ্দের মধ্যেও মঠ-মন্দিরের উন্নয়ন, সংস্কার ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর বিভিন্ন কাজে সহযোগিতার চেষ্টা করেছেন বলে জানান তিনি। চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় মানুষের কাছে পৌঁছে কাজ করার কথাও তুলে ধরেন।
এ সময় তাঁর সঙ্গে মাঠপর্যায়ে কাজ করা বিভিন্ন ব্যক্তি ও শুভাকাঙ্ক্ষীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান দীপক কুমার পালিত। ধর্মতত্ত্ববিদ স্বদেশ চক্রবর্তী, ভাগবত বক্তা উত্তম চক্রবর্তী, লায়ন সন্তোষ কুমার নন্দী, অধ্যাপক শিপুল কুমার দে, লায়ন রিমন মোহুরীসহ আরও অনেকের নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁদের সহযোগিতা কঠিন সময়ে তাঁকে সাহস জুগিয়েছে।
নিজের কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন সময়ের ওপর ছেড়ে দিয়ে তিনি বলেন, মানুষের প্রয়োজনের সময় তিনি সাধ্যমতো পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন। তাঁর বিশ্বাস, মানুষের জন্য করা ভালো কাজের স্মৃতি মানুষের হৃদয়ে থেকে যায়। সত্য সনাতন টিভি
নিজের ভবিষ্যৎ কর্মকাণ্ডের ইঙ্গিত দিয়ে দীপক কুমার পালিত বলেন, আগামী দিনে হয়তো তাঁকে আগের মতো চট্টগ্রামের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নিয়মিত দেখা যাবে না। জাতীয় পর্যায়ে আরও বিস্তৃত পরিসরে কাজ করার প্রত্যয়ে তাঁকে ঢাকামুখী হতে হতে পারে।
তবে চট্টগ্রামবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘দীপক কুমার পালিত আপনাদের থেকে দূরে যাচ্ছে না; শুধু কাজের পরিধি আরও বিস্তৃত করার জন্য এগিয়ে যাচ্ছে।’
বার্তার শেষাংশে তিনি সমঅধিকার, সমমর্যাদা, সম্প্রীতি ও মানবিকতার বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তাঁর ভাষায়, ধর্মীয় পরিচয়ের আগে সবাই মানুষ এবং ‘ধর্ম যার যার, কিন্তু দেশ সবার’এই আদর্শেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।
চট্টগ্রামবাসীর কাছে নিজের জন্য আশীর্বাদ ও প্রার্থনা কামনা করে তিনি বলেন, দেশের যেকোনো প্রান্তে মানুষের প্রয়োজনে নিজেকে কাজে লাগাতে চান।