
নিজস্ব প্রতিবেদক : সত্য সনাতন টিভি || অনলাইন সংস্করণ
চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায় সাম্প্রতিক অতি ভারী বর্ষণের ফলে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বন্যাকবলিত মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সরকারি সূত্রে জানা গেছে, সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে ভার্চুয়াল (জুম) সভার মাধ্যমে বন্যা পরিস্থিতির সার্বিক অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। সভায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষের নিরাপত্তা, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা, ত্রাণ কার্যক্রম এবং সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং অন্যান্য দপ্তরকে পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্রুত ও সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, নবজাতক, শিশু, প্রবীণ এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় জরুরি চিকিৎসাসেবা যাতে কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সে লক্ষ্যে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে সক্রিয় রাখা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, চট্টগ্রাম জেলার প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, খাবার স্যালাইন, প্রয়োজনীয় জরুরি ওষুধ এবং সাপের কামড়ের প্রতিষেধক (অ্যান্টিভেনম) মজুত রাখা হয়েছে। বন্যা-পরবর্তী সময়ে পানিবাহিত রোগ, ডায়রিয়া, জ্বর, চর্মরোগ এবং সাপের কামড়ের ঝুঁকি বিবেচনায় রেখে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
জেলার প্রতিটি উপজেলায় মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে। প্রয়োজনে দুর্গম ও বিচ্ছিন্ন এলাকায় গিয়ে চিকিৎসাসেবা প্রদানের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীরা জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন, যাতে বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার, নিরাপদ খাদ্য গ্রহণ, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং রোগের প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণের বিষয়ে মানুষ সচেতন হয়।
চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কন্ট্রোল রুম সার্বক্ষণিক বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয়ের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের অগ্রগতি তদারকি করা হচ্ছে। পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট সব ইউনিটকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, দুর্যোগকালীন সময়ে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জনগণকে গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করার এবং জরুরি প্রয়োজনে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।