মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:৩৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মাথায় ঘোমটা দিয়ে ইসকন মন্দিরে সানি লিওন চন্দ্রনাথ ধাম ও মহন্ত এস্টেটের নিরাপত্তায় ৫০ পুলিশ সদস্য মোতায়েনের আবেদন রাবি’র অধ্যাপক প্রভাস কুমারকে চাকরিচ্যুত হাটহাজারীতে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে শিক্ষাসামগ্রী দিল পাঞ্চজন্য সংসদ জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ থেকে আয়ান শর্মার আজীবন বহিষ্কার মানিকগঞ্জে হিন্দু স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও ছেলেকে পিটিয়ে সোনা-রুপা লুট রাজৈরে মনসা মন্দিরের তালা ভেঙে ৬ ভরি স্বর্ণালংকার চুরি মৌলভীবাজারে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সহস্র কণ্ঠে গীতাপাঠ ফেনীর সনাতনী সংগীতাঙ্গনে নতুন সংযোজন ‘মঞ্জিরা’ যাতায়াতের পথ বন্ধ করে বাঁশের বেড়া, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অপসারণ

ফরিদপুরের মধুখালীতে শিপন বিশ্বাসের সঙ্গীত জীবনের অদম্য লড়াই

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬
  • ৪৭ বার পড়া হয়েছে

অংকন দে || ফরিদপুর প্রতিনিধি

 

ফরিদপুরের মধুখালীর গর্ব শিপন বিশ্বাসের সঙ্গীত জীবনের অদম্য লড়াই। সঙ্গীত কেবল শব্দের মালা নয়, এটি হলো এক শিল্পীর অস্তিত্বের প্রকাশ। ফরিদপুর মধুখালীর কৃতি সন্তান, প্রতিভাবান মিউজিক কম্পোজার শিপন বিশ্বাস-এর গল্পটি ঠিক এমনই।

 

অনেকের কাছে তিনি প্রিয় ‘শিপন জেআর’ নামে পরিচিত—যে নামটি বয়োজ্যেষ্ঠ গুণীজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের দেওয়া এক আশীর্বাদ, যা তার প্রতি তাদের গভীর স্নেহ ও ভালোবাসার প্রতীক।

 

শিপন বিশ্বাসের এই পথচলায় তার সবচেয়ে বড় শক্তি তার পরিবার। মা-বাবা এবং দাদার অকুন্ঠ সমর্থন তাকে প্রতিটি পদক্ষেপে সাহস জুগিয়েছে। তার গানের গীতিকবিতার মূল কারিগর স্বয়ং তার দাদা। শুধু শব্দেই নয়, শিপনের গানের প্রতিটি ভিডিওকে একটি পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্রের রূপ দিতে তার দাদা একজন সিনেমাটিক ভিডিওগ্রাফার ও ভিডিও ডিরেক্টর হিসেবে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। প্রতিটি গানের দৃশ্যপট তৈরি থেকে শুরু করে ভিডিওর চূড়ান্ত রূপদান পর্যন্ত—সবকিছুই তার দাদার শৈল্পিক পরিচালনায় প্রাণ পায়। দাদার এই নান্দনিক দৃষ্টিভঙ্গি ও সৃজনশীলতা শিপনের গানকে দিয়েছে এক অনন্য মাত্রা। এই পারিবারিক মেলবন্ধনই শিপনের সৃজনশীলতার মূল প্রাণশক্তি।

 

শিপন বিশ্বাস বলেন, “আমার গুরুজি, মধুখালীর শ্রদ্ধেয় শ্রী শ্যামল ভৌমিক-এর প্রতি আমার শত কোটি প্রণাম ও ভালোবাসা। তিনিই আমার সুরের জগতকে আলোকোজ্জ্বল করেছেন।” এই কৃতজ্ঞতা কেবল গুরুর প্রতিই নয়, তার মিউজিক জীবনের সঙ্গী অরবিন্দ মন্ডল এবং বিশ্বজিৎ বিশ্বাসসহ তার সকল মিউজিক্যাল বন্ধুদের প্রতিও তিনি কৃতজ্ঞ। তাদের অকৃত্রিম সহযোগিতা ছাড়া এই যাত্রা অনেক কঠিন হতো।

 

মধ্যবিত্ত পরিবারের সীমাবদ্ধতা আর অভাব-অনটনের সাথে লড়াই করে তিনি আজ নিজের স্টুডিও গড়ে তুলেছেন। টাকা জমিয়ে, কষ্ট করে শিখেছেন মিউজিক পরিচালনা। একসময়ের প্রশাসনিক ক্যারিয়ারের সেই স্বপ্ন আজ রূপান্তরিত হয়েছে সুরের এক অনন্য জগতে, যেখানে তিনি তার সৃষ্টি দিয়ে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে চান।

 

শিপন বিশ্বাস বিনয়ের সাথে বলেন, “আমি সোশ্যাল মিডিয়ায় হয়তো এখনো খুব বেশি পরিচিতি পাইনি, কিন্তু আমি আমার আবেগের জায়গা থেকে কাজ করে যাচ্ছি। আমি কেবল আপনাদের ভালোবাসা পেতে চাই। মধুখালীবাসীসহ দেশবাসীর আশীর্বাদই আমার আগামীর পথচলার মূল শক্তি। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন, যেন আমি আপনাদের ভালোবাসা নিয়ে আরও বহুদূর এগিয়ে যেতে পারি।”

 

আজ শিপন বিশ্বাস নিজেই গান লেখেন, নিজেই সুর করেন এবং কম্পোজিশন করেন। তার গানে একদিকে যেমন থাকে আধুনিকতার ছোঁয়া, অন্যদিকে ফুটে ওঠে জীবনের বাস্তব গল্প। আগামী দিনগুলোতে তিনি তার স্টুডিওর মাধ্যমে আরও নতুন নতুন সুরের মূর্ছনা ছড়িয়ে দিতে চান। মধুখালীর এই মাটির সন্তান, যিনি সব প্রতিকূলতাকে জয় করে সুরে ঠাঁই নিয়েছেন, তার যাত্রা হোক আরও আলোকিত। শিপন বিশ্বাসের এই অদম্য যাত্রাপথে মধুখালীবাসী সবাই তার সাফল্যের জয়গান করছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews