
নিজস্ব প্রতিবেদক : জয় দাশ | চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যাকাণ্ড, দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা, হামলা এবং জায়গা জবরদখলের অভিযোগের প্রতিবাদে চট্টগ্রামে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট ২০২৬) সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বরে শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটি ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ চট্টগ্রাম মহানগর শাখার উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতৃবৃন্দ ও সনাতনী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা রংপুরের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের দাবি জানান। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত, সহিংসতা বন্ধ এবং ভূমি ও সম্পত্তি জবরদখলের অভিযোগের কার্যকর তদন্ত ও প্রতিকার দাবি করা হয়।
সম্প্রতি রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী পার্থী এবং ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, চারজনকেই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং তদন্তে পুলিশ, ডিবি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা কাজ করছে।
এ হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই বিভিন্ন সংগঠন ও নাগরিক মহল ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে আসছে। একই সঙ্গে পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্য ও তদন্ত নিয়ে যেসব প্রশ্ন উঠেছে, সেগুলোরও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তির দাবি জানানো হয়েছে।
চট্টগ্রামের মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কোনো নাগরিক যেন ধর্মীয় বা সামাজিক পরিচয়ের কারণে নিরাপত্তাহীনতায় না ভোগেন, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। একটি পরিবারকে নির্মমভাবে হত্যার মতো ঘটনা শুধু একটি পরিবারের ওপর আঘাত নয়, এটি সামগ্রিকভাবে মানুষের নিরাপত্তা ও আইনের শাসন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করে। তাই প্রতিটি হত্যাকাণ্ড, হামলা, নির্যাতন ও জবরদখলের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান তারা।
বক্তারা আরও বলেন, দেশের কোথাও কোনো ব্যক্তি বা পরিবারের সম্পত্তি জবরদখল, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা সহিংসতার শিকার হলে দ্রুত প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
মানববন্ধনে বক্তারা রংপুরের গণপতি চক্রবর্তী পরিবারের হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন, জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া সহিংসতা ও হামলার ঘটনাগুলোরও সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।
পরে মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বিভিন্ন স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে। অংশগ্রহণকারীরা হত্যাকাণ্ডের বিচার, সহিংসতা বন্ধ, সম্পত্তির নিরাপত্তা এবং নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
আয়োজকরা বলেন, তারা কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক সংঘাত বা বিভাজন চান না। বরং দেশে শান্তি, সম্প্রীতি, আইনের শাসন এবং সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করাই তাদের প্রত্যাশা। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপদে বসবাসের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বরে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে সনাতনী সম্প্রদায়ের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, সংগঠনের কর্মী-সমর্থক এবং সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
বক্তারা শেষ পর্যন্ত দাবি জানান রংপুরের চার হত্যাকাণ্ডসহ দেশের যেসব স্থানে হত্যাকাণ্ড, হামলা, নির্যাতন, সহিংসতা ও জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে, সেসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে কোনো নাগরিককে এমন পরিস্থিতির শিকার হতে না হয়, সে জন্য কার্যকর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
তাদের প্রত্যাশা, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশে সব সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতিময় পরিবেশ নিশ্চিত হবে।