শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:০৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সড়ক দুর্ঘটনায় দুই ভাই হারানোর শোক, এবার অকালে ঝরে গেল সপ্তম রায় প্রিয়মের প্রাণ বোনকে ভালো পাত্রে বিয়ে দেওয়ার স্বপ্ন ছিল সপ্তমের, সড়ক দুর্ঘটনায় থেমে গেল জীবন বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু ছাত্র মহাজোটের সম্মেলন প্রস্তুতি উপ-কমিটির সৌজন্য সাক্ষাৎ ও প্রথম সভা অনুষ্ঠিত তবলার তালে, সাংবাদিকতার কলমে-এবার মাস্টার্সেও সাফল্য অর্ণব মল্লিকের মুক্তির আগেই বাণিজ্যিক সাফল্যের ইঙ্গিত, ‘রামায়ণ’-এর সংগীতস্বত্ব বিক্রি প্রায় ৮০ কোটি রুপিতে ব্রিটিশ জাদুঘর থেকে বাগদেবীর মূর্তি ফেরাতে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করছে ভারত বাংলাদেশ হিন্দু ছাত্র পরিষদ পাহাড়তলী থানার অর্থ সম্পাদক নির্বাচিত: কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন প্রেম দাশ অক্ষয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে স্বপ্ন পূরণ, হারমোনিয়াম পেল ক্ষুদে সংগীতশিল্পী অনুশ্রী বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮৫তম প্রয়াণবার্ষিকীতে বাংলাদেশ মন্দির কমিটি, নাটোর জেলা শাখার শ্রদ্ধাঞ্জলি মন্দিরে বিবাহ সম্পূর্ণ করলেন গীতাপাঠক মিশন দত্ত

বোনকে ভালো পাত্রে বিয়ে দেওয়ার স্বপ্ন ছিল সপ্তমের, সড়ক দুর্ঘটনায় থেমে গেল জীবন

  • প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : সত্য সনাতন টিভি | অনলাইন সংস্করণ

 

সংসারের অভাব-অনটনের মধ্যেও স্বপ্ন দেখতেন সপ্তম রায় প্রিয়ম। পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করে বাবা-মাকে সহযোগিতা করতেন। তাঁর সবচেয়ে বড় স্বপ্ন ছিল একমাত্র বোন বৈশাখীর পড়াশোনা শেষ করিয়ে ভালো পাত্রের কাছে বিয়ে দেওয়া। সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। সিলেটের সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২২ বছর বয়সী সপ্তম।

 

শুক্রবার সকালে সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নয়জন নিহত হন। তাঁদের একজন সপ্তম রায় প্রিয়ম। তিনি সুনামগঞ্জ শহরের হাছননগর এলাকার বাসিন্দা উত্তম রায় ও শোভা রায়ের ছোট ছেলে।

 

পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অভাবের সংসারে পড়াশোনার পাশাপাশি সিলেট নগরের মহাজনপট্টির একটি কাপড়ের দোকানে কাজ করতেন সপ্তম। বাবা-মা দুজনেই অসুস্থ থাকায় সংসারের দায়িত্বও অনেকটা তাঁর কাঁধে এসে পড়েছিল।

 

সপ্তমের মেসো মুহিত রায় জানান, দুই ভাইয়ের মধ্যে সপ্তম ছিলেন ছোট। তাঁর বড় ভাই প্রিতম রায় ১২ বছর আগে মাত্র ১১ বছর বয়সে সুরমা নদীতে ডুবে মারা যান। সরকারি জুবিলী মাঠে বল খেলার সময় বল নদীতে পড়ে গেলে সেটি তুলতে গিয়ে স্রোতে ভেসে যান প্রিতম। পরে অনেক দূরে তাঁর মরদেহ পাওয়া যায়।

 

দুই ছেলের মধ্যে বড়জনকে হারানোর পর থেকেই শোকে কাতর ছিলেন মা শোভা রায়। এবার ছোট ছেলেকেও হারিয়ে পরিবারটির ওপর নেমে এসেছে আরেক দফা শোকের ছায়া।

 

হাছননগরের বাসিন্দা সুমিত চৌধুরী বলেন, উত্তম রায় ও তাঁর স্ত্রী শোভা রায় দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন। নানা সংকটের মধ্যেই চলত তাঁদের সংসার। বড় ছেলে মারা যাওয়ার পর সপ্তমই হয়ে উঠেছিলেন পরিবারের অন্যতম ভরসা।

 

সুমিত চৌধুরী বলেন, সংসারের টানাপোড়েন সামলাতে সপ্তম পড়াশোনার পাশাপাশি চাকরি নেন। কদিন আগেও নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। বলেছিলেন, বোন বৈশাখীকে পড়াশোনা করিয়ে প্রতিষ্ঠিত করা এবং পরে ভালো একটি পরিবারে তাঁর বিয়ে দেওয়াই ছিল সপ্তমের প্রধান লক্ষ্য।

 

সপ্তমদের গ্রামের বাড়ি ছিল হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার বিরাট গ্রামে। বর্তমানে তাঁর পরিবার সিলেট নগরের সোবহানীঘাট এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছে।

 

শুক্রবার সকালে কাশিকাপন এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে সিলেট থেকে ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা বেঙ্গল পরিবহনের একটি নাইট স্লিপার কোচের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থল ও পরে হাসপাতালে মোট নয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।

 

সপ্তমের মৃত্যুতে শুধু একটি পরিবারের উপার্জনের ভরসাই হারিয়ে যায়নি, থেমে গেছে তাঁর ছোট বোনকে ঘিরে দেখা একটি স্বপ্নও। যে ভাইটি বোনের ভবিষ্যৎ গড়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, সড়কের মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় সেই ভাই-ই আজ পরিবারের স্মৃতি হয়ে রইলেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews