
নিজস্ব প্রতিবেদক: সৌরভ সাহা | অনলাইন সংস্করণ
পূর্বপুরুষের স্মরণ ও তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে আজ থেকে শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় পর্ব পিতৃপক্ষ। আশ্বিন মাসের কৃষ্ণপক্ষজুড়ে চলবে পিতৃপুরুষকে স্মরণ করে বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান। এ সময় পরিবারের প্রয়াত সদস্যদের উদ্দেশ্যে তর্পণ, শ্রাদ্ধ, অন্ন-জল নিবেদন ও দানের রীতি রয়েছে।
সনাতন ধর্মীয় সংস্কৃতিতে পিতৃপক্ষকে বলা হয় এমন একটি সময়, যখন জীবিতরা তাঁদের পূর্বপুরুষদের স্মরণ করেন। শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে পরিবার, বংশপরম্পরা ও শিকড়ের প্রতি কৃতজ্ঞতার অনুভূতিও।
পিতৃপক্ষের বিভিন্ন তিথিতে প্রয়াত পিতা-মাতা, দাদা-দাদি, নানা-নানিসহ পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে জল ও তিল নিবেদন করা হয়। অনেক পরিবারে নির্দিষ্ট তিথিতে শ্রাদ্ধ ও অন্নদানের আয়োজন করা হয়।
পবিত্র নদী বা জলাশয়ের তীরে গিয়ে তর্পণ করার রীতিও প্রচলিত। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, শ্রদ্ধা ও ভক্তির সঙ্গে নিবেদিত এই তর্পণের মাধ্যমে পিতৃপুরুষদের প্রতি কর্তব্য ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।
পিতৃপক্ষের সঙ্গে মহাভারতের বীর কর্ণকে ঘিরে একটি জনপ্রিয় কাহিনি প্রচলিত রয়েছে। বলা হয়, কর্ণ জীবদ্দশায় অসংখ্য দান করলেও পিতৃপুরুষের উদ্দেশ্যে অন্ন-জল দানের সুযোগ পাননি।
মৃত্যুর পর স্বর্গে গিয়ে অন্নের পরিবর্তে সোনা ও ধনরত্ন পাওয়ার পর তিনি এর কারণ জানতে পারেন। তখন তাঁর জীবনের সেই অপূর্ণতার কথা সামনে আসে। পরবর্তীতে তাঁকে মর্ত্যে ফিরে পিতৃপুরুষের উদ্দেশ্যে অন্ন-জল দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।
ধর্মীয় লোককথায় কর্ণের এই ঘটনা পিতৃপক্ষের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ আখ্যান হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
পিতৃপক্ষের শেষ তিথি অমাবস্যা। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে এই দিনটি মহালয়া নামে পরিচিত। মহালয়ায় পিতৃপুরুষের উদ্দেশ্যে তর্পণ ও শ্রাদ্ধের বিশেষ আয়োজন করা হয়।
মহালয়া আসার সঙ্গে সঙ্গে ধর্মীয় পরিবেশেও পরিবর্তন দেখা দেয়। পিতৃস্মরণের পর শুরু হয় দেবী আরাধনার প্রস্তুতি। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে শারদীয় দুর্গোৎসবের আগমনী আবহ।
মহালয়ার পর শুরু হয় দেবীপক্ষ। এই সময় দেবী দুর্গাসহ বিভিন্ন রূপে আদিশক্তির আরাধনা করা হয়। ভক্তরা দেবীর কাছে মঙ্গল, শান্তি ও শক্তির প্রার্থনা করেন।
দেবী বন্দনার সূচনা নিয়ে অঞ্চলভেদে ভিন্নতা রয়েছে। কোথাও প্রতিপদ থেকে দেবীর আরাধনা শুরু হয়। আবার বাংলার প্রচলিত দুর্গাপূজায় ষষ্ঠী তিথি থেকে মূল পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।
পিতৃপক্ষের সূচনার মধ্য দিয়ে শুরু হলো পূর্বপুরুষ স্মরণের বিশেষ পর্ব। সামনে এগিয়ে আসছে মহালয়া, আর তার পরেই দেবীপক্ষ ও শারদীয় দুর্গোৎসব।
অর্থাৎ পিতৃস্মরণ থেকে দেবী আরাধনার দিকে এগিয়ে যাওয়ার এই সময়টিই সনাতন ধর্মীয় সংস্কৃতিতে পিতৃপক্ষের বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।