
রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার রাইখালী পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত শ্রীশ্রী লোকনাথ মন্দিরে কালবৈশাখীর তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সকালে আকস্মিক ঝড়ো হাওয়া ও কালবৈশাখী ঝড়ে মন্দিরের সেবাশ্রম, সেবায়েতদের থাকার ভবনসহ বেশ কয়েকটি কক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে মন্দিরের নিয়মিত ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনায় বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল থেকেই আকাশে কালো মেঘ জমতে শুরু করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রবল বেগে ঝড়ো হাওয়া বইতে থাকে। পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত হওয়ায় ঝড়ের তীব্রতা কয়েকগুণ বেশি অনুভূত হয়। প্রবল বাতাসে মন্দির সেবাশ্রমের টিনের চালা উড়ে যায় এবং সেবায়েতদের থাকার ভবনের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়াও কয়েকটি কক্ষের দেয়াল ও ছাউনির অংশ ভেঙে পড়ে। ঝড়ে মন্দির প্রাঙ্গণে থাকা গাছপালাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। সত্য সনাতন টিভি
ঘটনার সময় মন্দিরে অবস্থানরত ভক্ত ও সেবায়েতরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তবে সৌভাগ্যবশত এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ঝড় থেমে যাওয়ার পর স্থানীয় ভক্ত ও এলাকাবাসী মন্দিরে এসে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র প্রত্যক্ষ করেন এবং প্রাথমিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো সরিয়ে নেওয়ার কাজে সহযোগিতা করেন।
মন্দির কর্তৃপক্ষ জানান, পাহাড়ের ওপর নির্মিত হওয়ায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে মন্দিরটি প্রায়ই ঝুঁকির মধ্যে থাকে। এবারের কালবৈশাখী ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেবায়েতদের থাকার ভবন ও আশ্রমের কয়েকটি কক্ষ। বর্তমানে অনেক কক্ষেই অবস্থান করা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু না করলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে আরও বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। সত্য সনাতন টিভি
মন্দির কমিটির সদস্যরা জানান, সীমিত অর্থনৈতিক সামর্থ্যের কারণে এত বড় ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা তাদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই মন্দির সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের জন্য সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, ধর্মপ্রাণ মানুষ ও প্রবাসী ভক্তদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
সহযোগিতা বা যোগাযোগের জন্য মন্দিরের সেক্রেটারির মোবাইল নাম্বার: ০১৮৫৬-৮৩৩৯৩০।
স্থানীয় সনাতনী সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ বলেন, রাইখালী পাহাড়ের ওপর অবস্থিত এই শ্রীশ্রী লোকনাথ মন্দিরটি দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। প্রতি বছর এখানে বিভিন্ন পূজা, প্রার্থনা ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তরা অংশ নেন। তাই মন্দিরটি দ্রুত সংস্কার করা জরুরি বলে মনে করছেন তারা। সত্য সনাতন টিভি
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত মন্দিরটি দেখতে ইতোমধ্যে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা পরিদর্শনে গেছেন বলে জানা গেছে। মন্দির কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করেছেন, সকলের সহযোগিতায় দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো পুনর্নির্মাণ করা সম্ভব হবে এবং আগের মতো ধর্মীয় কার্যক্রম চালু রাখা যাবে।