বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১১:১১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ইতিহাসের আরেকটি অধ্যায়ের অবসান: নোয়াখালীতে ভেঙে ফেলা হলো ৫০০ বছরের প্রাচীন সমাধি-মঠ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে শরীয়তপুরে শুরু হচ্ছে শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা মহোৎসব পেকুয়ায় বন্যার্তদের দ্বিতীয় দফায় শুকনো খাবার বিতরণ আগামীকাল রথযাত্রা, ভক্তদের টানে পথে নামেন জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রা ফরিদপুরে রথযাত্রা ও উল্টো রথযাত্রা উপলক্ষে জেলা পুলিশের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে ইসকনের উদ্যোগে ৯ দিনব্যাপী শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা ‌মহোৎসব শুরু ১৬ জুলাই জয় শ্রী শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর লীলা ক্ষেত্র মন্দির (গ্রুপ)’–এর উদ্যোগে রংপুরের পীরগঞ্জে মহতী শ্রীগীতা দান অনুষ্ঠান টিউশনির বকেয়া টাকা চাইতেই শিক্ষক সিঁথি সীমিতার ওপর নৃশংস হামলা এইচএসসি পরীক্ষা ভালো না হওয়ায় আত্মহত্যা, রাজশাহীতে প্রাণ হারালেন দিশা রানী মহন্ত বয়স্ক ভাতা আনতে গিয়ে প্রবীণের দুই আঙুল বিচ্ছিন্নের অভিযোগ: নরসিংদী পৌরসভায় মানবিকতা নিয়ে প্রশ্ন

কে এই মাখনলাল সরকার, যার পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করলেন নরেন্দ্র মোদী

  • প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
  • ৯৩ বার পড়া হয়েছে

 

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বহু নাম সময়ের সঙ্গে আলোচনায় আসে, আবার হারিয়েও যায়। কিন্তু কিছু মানুষ আছেন, যাঁরা প্রচারের আলো থেকে দূরে থেকেও নীরবে একটি রাজনৈতিক দর্শন ও সংগঠনের ভিত গড়ে দেন। তেমনই এক প্রবীণ সংগঠকের নাম মাখনলাল সরকার।

 

সম্প্রতি কলকাতায় বিজেপির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে তাঁকে ঘিরে তৈরি হয় এক আবেগঘন মুহূর্ত। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi। প্রবীণ এই নেতাকে দেখেই এগিয়ে যান তিনি, আলিঙ্গন করেন এবং ঝুঁকে পড়ে তাঁর পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম জানান। মুহূর্তটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। সত্য সনাতন টিভি

 

 

মাখনলাল সরকার ছিলেন Syama Prasad Mukherjee–এর আদর্শে বিশ্বাসী এক নিবেদিতপ্রাণ সংগঠক। জানা যায়, জম্মু ও কাশ্মীর আন্দোলনের সময় তিনি ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সহযাত্রী ছিলেন এবং সেই আন্দোলনে অংশ নিয়ে গ্রেপ্তারও হন।

 

বাংলায় বিজেপির সংগঠন যখন প্রায় অস্তিত্বহীন, তখন গ্রামে গ্রামে ঘুরে সংগঠন গড়ে তোলার কাজে নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন তিনি। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বড় পদ বা প্রচারের আলো খুব কমই পেয়েছেন, কিন্তু দলের ভিত শক্ত করতে তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। সত্য সনাতন টিভি

 

মাখনলাল সরকারকে নিয়ে রাজনৈতিক মহলে একটি গল্প বহুদিন ধরেই প্রচলিত। বলা হয়, একসময় একটি দেশাত্মবোধক গান গাওয়ার কারণে তাঁকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল। আদালতে হাজির করার পর বিচারক তাঁকে ক্ষমা চাইতে বলেন। কিন্তু তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “আমি কোনো অপরাধ করিনি, ক্ষমা চাইব কেন?”

 

এরপর বিচারক তাঁকে গানটি গেয়ে শোনাতে বলেন। গান শোনার পর বিচারক নাকি পুলিশকে নির্দেশ দেন, তাঁকে সম্মানের সঙ্গে বাড়ি পৌঁছে দিতে। যদিও এই ঘটনার আনুষ্ঠানিক নথি খুব বেশি পাওয়া যায় না, তবু তাঁর অনুসারীদের কাছে এটি তাঁর আপসহীন আদর্শিক অবস্থানের প্রতীক হয়ে আছে।

 

 

শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের পর সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থানের পেছনে মাখনলাল সরকারের মতো মানুষদের অবদান স্মরণীয়। তিনি উল্লেখ করেন, ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্বপ্ন বাস্তবায়নে এই প্রবীণ নেতারা আজীবন কাজ করে গেছেন। তিনি আরও বলেন, এমন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তিত্বদের জন্যই দল মানুষের মধ্যে শক্ত ভিত তৈরি করতে পেরেছে। সত্য সনাতন টিভি

 

 

বর্তমান সময়ের রাজনৈতিক বাস্তবতায় যেখানে ক্ষমতার হিসাবই বেশি আলোচিত হয়, সেখানে মাখনলাল সরকারের মতো মানুষরা অন্য এক রাজনীতির প্রতীক। আদর্শ, সংগঠন এবং দীর্ঘ ত্যাগের ইতিহাস তাঁদের জীবনকে আলাদা করে তোলে।

 

তাঁর প্রতি নরেন্দ্র মোদীর প্রকাশ্য সম্মান অনেকের কাছে কেবল একজন প্রবীণ নেতাকে সম্মান জানানো নয়, বরং এক রাজনৈতিক ঐতিহ্য ও সংগ্রামের ইতিহাসকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রতীকী মুহূর্ত।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews