
নিজস্ব প্রতিবেদক : জয় দেব নাথ | অনলাইন সংস্করণ
ছোটবেলায় জাতপাতের কারণে মন্দিরে প্রবেশের সুযোগ পাননি। এমনকি প্রতিমা ছোঁয়ার অধিকারও ছিল না তাঁর। সেই মানুষটিই আজ নিজের দক্ষতা ও একাগ্রতায় তৈরি করছেন দুর্গাপ্রতিমা। তিনি দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার রামপুর দাসপাড়া এলাকার পতন বাঁসফোর।
হরিজন সম্প্রদায়ের এই শিল্পী বর্তমানে রামপুর দাসপাড়া কেন্দ্রীয় দুর্গামন্দিরের জন্য দুর্গাপ্রতিমা তৈরি করছেন। তাঁর হাতে তৈরি প্রতিমা শুধু শিল্পকর্ম নয়, তাঁর নিজের জীবনের পরিবর্তনেরও যেন প্রতিচ্ছবি। সত্য সনাতন টিভি
পতন বাঁসফোর জানান, ছোটবেলায় জাতপাতের কারণে মন্দিরে প্রবেশ কিংবা প্রতিমা স্পর্শের সুযোগ ছিল না। সময়ের সঙ্গে সেই বাস্তবতা বদলেছে। নিজের আগ্রহ, পরিশ্রম ও দক্ষতার মাধ্যমে তিনি প্রতিমা তৈরির কাজ শিখেছেন এবং এখন দুর্গাপ্রতিমা নির্মাণ করছেন।
তিনি বলেন, অর্থের চেয়ে নিজের পরিচয় ও কাজের স্বীকৃতিকে বেশি গুরুত্ব দেন। হরিজন সম্প্রদায়ের একজন মানুষ হিসেবে দুর্গাপ্রতিমা তৈরির মতো একটি শিল্পে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারাকে তিনি গর্বের বিষয় মনে করেন। সত্য সনাতন টিভি
স্থানীয়দের কাছে পতন বাঁসফোরের এই কাজ সামাজিক পরিবর্তনেরও একটি দৃষ্টান্ত। যে মন্দিরে একসময় প্রবেশের সুযোগ ছিল না, সেই মন্দিরের দুর্গাপ্রতিমা তৈরির দায়িত্ব এখন তাঁর হাতে।
পতন বাঁসফোরের গল্প যেন মনে করিয়ে দেয়—মানুষের পরিচয় নির্ধারণে জাতপাত নয়, তার যোগ্যতা, শ্রম ও প্রতিভাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।