
স্টাফ রিপোর্টার : জয় দেব নাথ
ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুসরণ করে এক ট্রান্সজেন্ডার নারীর বিয়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই এটিকে বাংলাদেশে প্রকাশ্যে আলোচিত প্রথম ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তির হিন্দু রীতিতে সম্পন্ন হওয়া বিবাহ হিসেবে উল্লেখ করছেন। তবে এ বিষয়ে সরকারি বা স্বতন্ত্র কোনো আনুষ্ঠানিক তালিকা বা স্বীকৃতি নেই।
তাসনুভা আনান শিশির জন্মের সময় পুরুষ হিসেবে নিবন্ধিত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি নিজেকে একজন ট্রান্সজেন্ডার নারী হিসেবে পরিচিত করেন। ২০২১ সালের আন্তর্জাতিক নারী দিবসে তিনি বৈশাখী টেলিভিশনে সংবাদ পাঠ করে বাংলাদেশের প্রথম প্রকাশ্যে পরিচিত ট্রান্সজেন্ডার সংবাদ উপস্থাপক হিসেবে আলোচনায় আসেন।
পরবর্তীতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। সম্প্রতি তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের একজন পুরুষকে হিন্দু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান অনুসারে বিয়ে করেন। সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি সিঁথিতে সিঁদুর, হাতে শাঁখা পরে বিবাহ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। অনুষ্ঠানটি ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। সত্য সনাতন টিভি
ঘটনাটি সামনে আসার পর সামাজিক ও ধর্মীয় পরিমণ্ডলে নানা ধরনের আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ এটিকে ব্যক্তির ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ হিন্দু ধর্মীয় বিধান ও আচার-অনুশাসনের আলোকে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
সনাতন ধর্মের দৃষ্টিভঙ্গি :
হিন্দু ধর্মে বিবাহকে একটি পবিত্র সংস্কার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শাস্ত্র অনুযায়ী বিবাহের উদ্দেশ্য ধর্মাচরণ, গার্হস্থ্য জীবন, পরিবার গঠন এবং সামাজিক দায়িত্ব পালন। তবে আধুনিক অর্থে ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তির বিবাহ সম্পর্কে বেদ, উপনিষদ, গীতা বা প্রধান স্মৃতিশাস্ত্রে সুস্পষ্ট ও সর্বসম্মত কোনো বিধান নেই।
এ কারণে এ ধরনের বিষয়ে বিভিন্ন আচার্য, পুরোহিত ও ধর্মীয় পণ্ডিতের মধ্যে মতভেদ দেখা যায়। একাংশ মনে করেন, প্রচলিত শাস্ত্রীয় বিধান অনুযায়ী বিবাহ নারী ও পুরুষের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা। অন্যদিকে, কেউ কেউ মানবিক মর্যাদা, ব্যক্তিগত বিশ্বাস এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।
ঘটনাটি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ধর্মীয় বিধান, ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।