
নিজস্ব প্রতিবেদন : সত্য সনাতন টিভি || অনলাইন সংস্করণ
কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেতা ও নির্মাতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং পশ্চিমবঙ্গের বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারীর পৃথক বৈঠককে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গন ও টলিউডে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এসব জল্পনাকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন এই বরেণ্য অভিনেতা।
জানা গেছে, গত সোমবার কলকাতার বালিগঞ্জে প্রসেনজিতের বাসভবন ‘উৎসব’-এ সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন অমিত শাহ। এরপর বৃহস্পতিবার বিকেলে পশ্চিমবঙ্গ সচিবালয় নবান্নে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে প্রায় দুই ঘণ্টার বৈঠক করেন তিনি। ধারাবাহিক এই বৈঠকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ওঠে, প্রসেনজিৎ হয়তো বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন কিংবা রাজ্যসভার সদস্য হচ্ছেন।
এসব গুঞ্জনের জবাবে প্রসেনজিৎ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা বর্তমানে তার নেই। ভবিষ্যতে এমন কোনো সিদ্ধান্ত নিলে তিনি নিজেই সবার আগে সংবাদমাধ্যমকে জানাবেন।
তিনি বলেন, নবান্নে তার উপস্থিতির উদ্দেশ্য ছিল বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা। চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়ন, শুটিং–সংক্রান্ত বাস্তব সমস্যার সমাধান এবং শিল্পীদের কাজের পরিবেশ উন্নত করার বিষয়গুলোই আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।
রাজ্যসভার সদস্য হওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে প্রসেনজিৎ মন্তব্য করেন, রাজনীতি নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। একজন শিল্পী হিসেবে ইন্ডাস্ট্রির স্বার্থেই তিনি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করছেন।
টলিউডের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কী আলোচনা হয়েছে এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পের সার্বিক উন্নয়ন, মহানায়ক উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষ উদযাপন এবং ইন্ডাস্ট্রির বিভিন্ন প্রয়োজনীয় বিষয় নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। চার দশকের বেশি সময় ধরে চলচ্চিত্র অঙ্গনের সঙ্গে যুক্ত থাকায় এসব বিষয়ে মতামত দেওয়াকে তিনি নিজের দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করেন।
এদিকে বৈঠকে স্টুডিওপাড়ায় নতুন কমিটি গঠনের সম্ভাবনারও ইঙ্গিত মিলেছে। এ বিষয়ে প্রসেনজিৎ বলেন, ইন্ডাস্ট্রির স্বার্থে যদি ভবিষ্যতে তাকে কোনো দায়িত্ব দেওয়া হয়, তবে তা গ্রহণ করতে তিনি প্রস্তুত। তার ভাষায়, বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পকে আরও এগিয়ে নেওয়াই সবার প্রধান লক্ষ্য।