
কানাডায় বিশ্বকাপের উদ্বোধনী পর্ব শুরু হয়েছে টরন্টোর একটি স্টেডিয়ামে, যেখানে কানাডা ও বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনার ম্যাচের আগে আয়োজিত হয় বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। দেশটির বহুসাংস্কৃতিক পরিচয়, বৈচিত্র্য এবং কমিউনিটি ঐক্যের প্রতিফলন ঘটানো এই আয়োজনে ফুটে ওঠে বিশ্বসংগীত ও সংস্কৃতির মিলনমেলা।
এই তারকাবহুল মঞ্চে বাংলাদেশেরও একটি প্রতিনিধিত্বমূলক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। পারফরমারদের তালিকায় ছিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন ডিজে ও সংগীত প্রযোজক সঞ্জয় দেব, যিনি আন্তর্জাতিক ইলেকট্রনিক ড্যান্স মিউজিক অঙ্গনে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছেন।
ফিফা আগেই জানিয়েছিল, কানাডার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি দেশটির বহুজাতিক সংস্কৃতি, আদিবাসী ঐতিহ্য এবং সমসাময়িক সংগীতধারার সমন্বয়ে সাজানো হবে। সেই পরিকল্পনার প্রতিফলন দেখা যায় মঞ্চসজ্জা ও পরিবেশনায়। অনুষ্ঠানে অংশ নেন কানাডার জনপ্রিয় শিল্পী মাইকেল বুবলে, অ্যালানিস মরিসেট, অ্যালেসিয়া কারা, জেসি রেয়েজসহ আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন একাধিক শিল্পী। এ ছাড়া নোরা ফাতেহি, ভেজেড্রিম, এলিয়ানা ও উইলিয়াম প্রিন্সের মতো শিল্পীরাও পারফর্ম করেন।
এই বিশাল তারকাসমাবেশের মধ্যেই স্থান করে নেন সঞ্জয় দেব। ইলেকট্রনিক, পপ এবং দক্ষিণ এশীয় সাউন্ডের মিশ্রণে গড়ে তোলা তার সংগীতশৈলী বিশ্বমঞ্চে ভিন্নমাত্রা যোগ করে। ফলে বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আয়োজনে তার উপস্থিতি দক্ষিণ এশীয় ও বিশেষ করে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শিল্পীদের প্রতিনিধিত্ব হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে কানাডার পরিচয় ও বৈচিত্র্যকে তুলে ধরতে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয় আদিবাসী সংস্কৃতি, জাতীয় সংগীত পরিবেশনা এবং সোনালি ফুটবল থিমভিত্তিক মঞ্চসজ্জার ওপর। মাইকেল বুবলে ও অ্যালানিস মরিসেটের পরিবেশনা দর্শকদের মধ্যে বাড়তি উচ্ছ্বাস তৈরি করে। মরিসেট কানাডার জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন।
বিশ্বকাপ মাঠে না থাকলেও সাংস্কৃতিক ও বিনোদন মঞ্চে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত একজন শিল্পীর অংশগ্রহণকে অনেকেই প্রতীকী সাফল্য হিসেবে দেখছেন। ফুটবল বিশ্বকাপ শুধুমাত্র মাঠের খেলা নয়; এটি সংগীত, সংস্কৃতি এবং বৈশ্বিক সংযোগের এক বিশাল উৎসব। সেই উৎসবের অংশ হয়ে উঠেছে সঞ্জয়ের উপস্থিতি।
টরন্টোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সংক্ষিপ্ত ও গতিশীলভাবে সাজানো ছিল, যাতে ম্যাচ শুরুর আগে দর্শকদের মধ্যে উত্তেজনা ও আবহ তৈরি হয়। কানাডার জন্য এটি ছিল নিজেদের মাটিতে বিশ্বকাপ আয়োজনের এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত, আর সেই মঞ্চেই বাংলাদেশের একটি সাংস্কৃতিক ছোঁয়া যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রা।