
ধর্মের পরিচয় ব্যবহার করে হিন্দু ও মুসলমানের মধ্যে বিভেদ তৈরির রাজনীতি বন্ধ হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)–এর প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে অনুষ্ঠিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি ক্ষমতাসীন বিজেপির সমালোচনা করে এ কথা বলেন।
সমাবেশে বক্তব্যে অভিজিৎ দিপকে বলেন, গত এক দশকের বেশি সময় ধরে দেশে ধর্মকেন্দ্রিক যে রাজনীতি চলছে, তা সাধারণ মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারেনি। তাঁর দাবি, এই রাজনীতি তরুণদের কর্মসংস্থানের সমস্যারও সমাধান করতে ব্যর্থ হয়েছে।
দ্য হিন্দুস্তান গেজেটের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নিট ও সিবিএসই পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভে অংশ নেন বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ।
বক্তব্যের একপর্যায়ে নিজের পরিবারের উদ্বেগের কথাও তুলে ধরেন অভিজিৎ। তিনি বলেন, বিদেশে যাওয়ার সময় তাঁর মা বিচ্ছেদের কষ্টে কেঁদেছিলেন। তবে দেশে ফেরার সময় পরিবারের উদ্বেগ ছিল আরও বেশি। তাঁর ভাষ্য, গত কয়েক দিন ধরে তাঁর মা ও বোন আশঙ্কা করছিলেন, দেশে ফিরে তিনি কোনো ধরনের সরকারি হয়রানির মুখে পড়তে পারেন।
অভিজিৎ দিপকের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এই যুব আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক। আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দলও।
জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টির (এনসিপি) সাধারণ সম্পাদক রোহিত পাওয়ার বলেন, তরুণদের ব্যাপক অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে পরীক্ষা ব্যবস্থার অনিয়ম ও সরকারের নীতিগত ব্যর্থতা নিয়ে যুবসমাজের মধ্যে গভীর অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
এদিকে শিবসেনা (ইউবিটি) প্রধান ও মহারাষ্ট্রের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে আন্দোলনকারীদের প্রতি সমর্থন জানান। তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার দায়িত্ব যাদের কাঁধে, সেই তরুণেরা প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করে রাস্তায় নেমেছে। তাদের দাবি ও উদ্বেগকে গুরুত্ব দেওয়া সরকারের দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, আন্দোলনকারী তরুণদের অবজ্ঞা বা তুচ্ছতাচ্ছিল্য না করে তাদের বক্তব্য শোনা উচিত। যন্তর মন্তরের সমাবেশ দেখিয়ে দিয়েছে, দেশের তরুণ প্রজন্ম নিজেদের অধিকার ও ন্যায়বিচারের দাবিতে সংগঠিত হতে প্রস্তুত।