
নিজস্ব প্রতিবেদক : সত্য সনাতন টিভি | অনলাইন সংস্করণ
মেধার ভিত্তিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন মিশন আচার্য। কিন্তু নিজের নামে স্থায়ী বসতভিটা না থাকায় শেষ ধাপে এসে তাঁর চাকরি অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও হস্তক্ষেপের পর এবার সেই জটিলতা কাটতে যাচ্ছে। মিশন আচার্যকে নিয়োগপত্র দেওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
রোববার মিশনকে সঙ্গে নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী (সচিব পদমর্যাদার) মো. রাশেদ খাঁন। এ সময় মিশনের নিয়োগ আটকে থাকার পুরো বিষয়টি মন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হয়। পরে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়।
সাক্ষাতের একটি ছবি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশ করেন রাশেদ খাঁন। সেখানে তিনি জানান, মিশন আচার্য শিগগিরই নিয়োগপত্র হাতে পেতে যাচ্ছেন। একই পোস্টে তিনি শিক্ষামন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন।
মিশনের চাকরি আটকে যাওয়ার কারণ নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের কাছে ব্যাখ্যাও চান শিক্ষামন্ত্রী। তাঁর প্রশ্ন ছিল, কোনো প্রার্থীর নিজস্ব বাড়ি বা জমি না থাকলে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ দেওয়া যাবে না—এমন কোনো বিধিবদ্ধ শর্ত আদৌ আছে কি না।
অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তার সঙ্গে ফোনালাপে শিক্ষামন্ত্রী জানতে চান, মিশনের মতো একজন প্রার্থীকে স্থায়ী আবাসনের বিষয়টি দেখিয়ে কীভাবে নিয়োগ থেকে বিরত রাখা হলো। এ ক্ষেত্রে কোন নিয়ম বা নির্দেশনা অনুসরণ করা হয়েছে, তার লিখিত ব্যাখ্যাও দেখতে চান তিনি।
গত বছরের ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৫’-এ অংশ নিয়ে সফল হন মিশন। চূড়ান্ত ফলাফলে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের জন্য তাঁর নাম সুপারিশ করা হয়। তাঁর সঙ্গে একই সময়ে সুপারিশ পাওয়া ১৮২ জনের মধ্যে ১৮০ জন নিয়োগপত্র পেলেও মিশনের ক্ষেত্রে বিষয়টি আটকে যায়।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কলাবাগান এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকেই বড় হয়েছেন মিশন। চাকরির আবেদনেও ওই ঠিকানার তথ্য দিয়েছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস এবং জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে যোগাযোগ করে তিনি জানতে পারেন, স্থায়ী ঠিকানা নিশ্চিত করতে না পারার কারণেই তাঁর নিয়োগপত্র দেওয়া হচ্ছে না।
তবে পুলিশের যাচাই প্রক্রিয়ায় কলাবাগানের ঠিকানায় মিশনের বসবাসের তথ্য সঠিক পাওয়া যায়। ফলে নিয়োগ আটকে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
শৈশব থেকেই নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে বড় হয়েছেন মিশন। তাঁর জন্মের আগেই বাবা নন্দ আচার্য পরিবার থেকে আলাদা হয়ে যান। এরপর মা ময়না আচার্য গৃহপরিচারিকার কাজ করে দুই সন্তানকে মানুষ করেন। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও লেখাপড়া চালিয়ে যান মিশন। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগ থেকে তিনি স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।
মিশনের মাতুলালয় ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পণ্ডিতপুর গ্রামে। সেখানে তাঁদের কোনো নিজস্ব বাড়ি ছিল না। তবে ২০২২ সালে তাঁর এক মামা তাঁকে দুই শতক জমি দেন। চাকরি হলে সেই জমিতে বাড়ি নির্মাণ করে সেখানে স্থায়ীভাবে থাকার পরিকল্পনা করেছিলেন মিশন।
মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্বাচিত হওয়ার পরও শুধু স্থায়ী আবাসনের জটিলতায় তাঁর নিয়োগ আটকে যাওয়ার ঘটনাটি আলোচনায় আসে। এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে মিশনের সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে।