
নিজস্ব প্রতিবেদন : ঝিনাইদহ প্রতিনিধি | সত্য সনাতন টিভি
ঝিনাইদহ শহরের কলাবাগানের একটি ভাড়া বাসায় মা ও ভাইয়ের সঙ্গে বেড়ে উঠেছেন মিশন আচার্য। অভাব-অনটনের সংসারে তাঁর শৈশব কেটেছে নানা সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। অন্যের বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করে মা ময়না আচার্য দুই ছেলেকে বড় করেছেন। নিজের কোনো ভিটেবাড়ি বা জমিজমা নেই তাঁদের।
সংগ্রামের মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন মিশন। এসএসসিতে জিপিএ-৫ এবং এইচএসসিতে জিপিএ-৪.৮৩ পাওয়ার পর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন তিনি। এরপর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সুপারিশপ্রাপ্ত হন।
চাকরি পাওয়ার মাধ্যমে মায়ের দীর্ঘদিনের কষ্ট কিছুটা লাঘব হবে এমন আশাই করেছিলেন মিশন। তবে তাঁর সেই স্বপ্ন এখন আটকে আছে ‘স্থায়ী ঠিকানা’ নিয়ে জটিলতায়।
মিশনের মা ময়না আচার্য জানান, তাঁর স্বামী নন্দ আচার্য যশোরের বাসিন্দা ছিলেন। বিয়ের পর তাঁরা ঝিনাইদহে সংসার শুরু করেন। তবে মিশন মায়ের গর্ভে থাকা অবস্থায় তাঁর বাবা বাড়ি ছেড়ে চলে যান। এরপর আর ফিরে আসেননি। দুই সন্তানকে নিয়ে তখন সংসারের হাল ধরেন ময়না। অন্যের বাড়িতে কাজ করে সন্তানদের বড় করেন তিনি।
বড় ছেলে শৈলেন আচার্য সংসারের চাপে বেশি দূর পড়াশোনা করতে পারেননি। বর্তমানে অন্যের সঙ্গে ভাগে কাপড়ের ব্যবসা করেন। তবে ছোট ছেলে মিশন পড়াশোনা চালিয়ে যান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করেন।
চাকরির আবেদনের সময় মিশন ঝিনাইদহ শহরের কলাবাগানে যে ভাড়া বাসায় বসবাস করেন, সেই ঠিকানাই ব্যবহার করেন। তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্র ও শিক্ষাসনদেও ওই ঠিকানা রয়েছে। নিয়োগের সুপারিশ পাওয়ার পর পুলিশ ওই ভাড়া বাসায় গিয়ে তাঁর ঠিকানা যাচাই করেছে বলেও জানান তিনি।
তবে এরপরও নিয়োগপত্র পাননি মিশন। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও জেলা প্রশাসকের দপ্তরে যোগাযোগ করে তিনি জানতে পারেন, তাঁর কোনো স্থায়ী ঠিকানা পাওয়া যায়নি। এ কারণেই নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি বলে তাঁকে জানানো হয়েছে।
মিশনের প্রশ্ন, নিজের বাড়ি বা জমি না থাকা কি চাকরির ক্ষেত্রে তাঁর অযোগ্যতার কারণ হতে পারে? দীর্ঘদিন ধরে যে ঠিকানায় তিনি বসবাস করছেন, জাতীয় পরিচয়পত্র ও শিক্ষাসনদে যে ঠিকানা রয়েছে এবং পুলিশ যে ঠিকানা যাচাই করেছে, সেটি কি তাঁর ঠিকানা হিসেবে বিবেচিত হবে না?
মিশন বলেন, তিনি কোনো বিশেষ সুবিধা চান না। তাঁর বিষয়টি যেন প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সঠিকভাবে যাচাই করা হয় এবং ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এটাই তাঁর প্রত্যাশা।
অন্যের বাড়িতে কাজ করে সন্তানকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত পড়িয়েছেন ময়না আচার্য। সেই সন্তান মেধার সঙ্গে পড়াশোনা শেষ করে সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সুপারিশও পেয়েছেন। এখন শুধু স্থায়ী ভিটেবাড়ি না থাকার কারণে তাঁর নিয়োগ আটকে থাকায় পরিবারটির সামনে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
মিশনের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে প্রযোজ্য বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এমন প্রত্যাশা তাঁর পরিবার ও স্থানীয়দের।