সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সনাতন ঋষি আশ্রমে JHP প্রবাসী ফোরামের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ সর্বপ্রথম মেধস মুনির আশ্রমে হয়েছিল শারদীয় দুর্গাপূজা আলুটিলার সাপমারায় মালবাহী জীপ খাদে, চালক চন্দন দত্তের মৃত্যু চট্টগ্রাম মহানগরে হিন্দু ছাত্র সংহতির নতুন কমিটি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুল ও ধর্মীয় গ্রন্থে সনাতনী নবীনদের বরণ খাগড়াছড়িতে ৯টি উপজেলায় ৬৮টি পূজা মন্ডপে অনুষ্ঠিত হবে দুর্গোৎসব নবজাতকের আগমনের আনন্দের মাঝেই শোকের ছায়া আজ থেকে পিতৃপক্ষ,পূর্বপুরুষদের স্মরণ করার দিন শুরু নাসিরনগরে সাবেক প্রধান শিক্ষকের বাসায় ডাকাতি, হাত-পা ও চোখ বেঁধে লুট দুর্গাপূজায় আলোকসজ্জা সীমিত রাখার আহ্বান বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর

সর্বপ্রথম মেধস মুনির আশ্রমে হয়েছিল শারদীয় দুর্গাপূজা

  • প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : জয় দেব নাথ | চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

 

শারদীয় দুর্গাপূজার সঙ্গে জড়িয়ে আছে নানা পৌরাণিক কাহিনি ও ধর্মীয় ঐতিহ্য। চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার মেধস মুনির আশ্রমও সেই ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত একটি তীর্থস্থান। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই আশ্রমেই রাজা সুরথ ও সমাধি বৈশ্য দেবী দুর্গার আরাধনা করেছিলেন। তাঁদের পূজার মধ্য দিয়েই মর্ত্যে শারদীয় দুর্গাপূজার সূচনা হয়েছিল বলে ধর্মীয় কাহিনিতে উল্লেখ রয়েছে। সত্য সনাতন টিভি

 

পুরাণের কাহিনি অনুযায়ী, রাজা সুরথ ছিলেন একজন পরাক্রমশালী রাজা। শত্রুর আক্রমণে রাজ্য হারিয়ে তিনি একসময় গভীরভাবে দুঃখিত ও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। একই সময়ে সমাধি নামে এক বৈশ্য আপনজন ও সম্পদ হারিয়ে মানসিকভাবে কষ্টে ছিলেন। দুজনই নিজেদের দুরবস্থার কারণ ও মুক্তির পথ খুঁজতে গিয়ে মেধস মুনির আশ্রমে উপস্থিত হন।

 

সত্য সনাতন টিভি || আমরা সত্যের সৈনিক

 

মেধস মুনি তাঁদের দেবী মহামায়ার উপাসনার পরামর্শ দেন। এরপর রাজা সুরথ ও সমাধি বৈশ্য আশ্রমের কাছে দেবীর মৃন্ময় প্রতিমা নির্মাণ করে পূজা ও সাধনায় নিয়োজিত হন। দীর্ঘ সাধনার পর দেবী তাঁদের সামনে আবির্ভূত হন এবং তাঁদের মনোবাসনা পূর্ণ করেন বলে দেবী মাহাত্ম্য বা শ্রীশ্রীচণ্ডী-র কাহিনিতে বর্ণিত হয়েছে।

 

তবে মেধস মুনির আশ্রমেই ইতিহাসের সর্বপ্রথম দুর্গাপূজা হয়েছিল কি না, এ বিষয়ে প্রত্নতাত্ত্বিক বা ঐতিহাসিকভাবে নিশ্চিত প্রমাণের পরিবর্তে মূলত পুরাণ ও স্থানীয় ধর্মীয় ঐতিহ্যের ওপরই নির্ভর করা হয়। এ কারণে আশ্রমটিকে ঘিরে ‘প্রথম দুর্গাপূজার স্থান’ হিসেবে যে পরিচিতি রয়েছে, সেটি ধর্মীয় বিশ্বাস ও প্রচলিত ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে বিবেচিত।

 

মেধস আশ্রমের সঙ্গে বেদানন্দ স্বামীর সাধনার ইতিহাস :

 

মেধস মুনির আশ্রমের বর্তমান পরিচিতির পেছনে বেদানন্দ স্বামীর সাধনা ও আশ্রম পুনরুদ্ধারের কাহিনিও গুরুত্বপূর্ণ।

 

স্থানীয় ও আশ্রমকেন্দ্রিক প্রচলিত বর্ণনা অনুযায়ী, বরিশালের গৈলা এলাকার পণ্ডিত জগবন্ধু চক্রবর্তীর পরিবারে জন্ম নেওয়া চন্দ্রশেখর পরবর্তী সময়ে ধর্ম ও শাস্ত্রচর্চায় মনোনিবেশ করেন। জীবনের একপর্যায়ে তিনি স্বামী সত্যানন্দের সংস্পর্শে আসেন। এরপর মেধস মুনির আশ্রমের সন্ধানে চট্টগ্রামে আসেন এবং সন্ন্যাসধর্ম গ্রহণ করে বেদানন্দ স্বামী নামে পরিচিত হন বলে প্রচলিত আছে। সত্য সনাতন টিভি

 

ধর্মীয় ঐতিহ্যে বলা হয় বোয়ালখালীর সন্ন্যাসী পাহাড় এলাকায় সাধনার সময় তিনি শিবের দর্শন লাভ করেন। পরে মেধস মুনির প্রাচীন আশ্রম খুঁজে বের করা ও এর উন্নয়নে কাজ করার জন্য তিনি নির্দেশনা পান বলে আশ্রমসংশ্লিষ্ট বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে। এরপর দীর্ঘ অনুসন্ধান ও সাধনার মাধ্যমে তিনি মেধস মুনির আশ্রমের সন্ধান পান এবং আশ্রমের উন্নয়ন ও ধর্মীয় কার্যক্রমে ভূমিকা রাখেন বলে প্রচলিত রয়েছে।

 

বর্তমানে মেধস মুনির আশ্রম সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান। বিশেষ করে শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে এখানে ভক্তদের সমাগম ঘটে। পূজা, প্রার্থনা ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি ভক্তরা স্মরণ করেন রাজা সুরথ, সমাধি বৈশ্য ও মেধস মুনির সেই পৌরাণিক কাহিনি।

 

পুরাণের কাহিনি, স্থানীয় ধর্মীয় ঐতিহ্য ও দীর্ঘদিনের সাধন-ভজনের ইতিহাস মিলিয়ে বোয়ালখালীর মেধস মুনির আশ্রম আজও দুর্গাপূজার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিত।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews