
নিজস্ব প্রতিবেদক : সত্য সনাতন টিভি | অনলাইন সংস্করণ
রাজশাহীর চারঘাটে ইসলাম ধর্ম ও মাদ্রাসা শিক্ষা নিয়ে ফেইসবুকে আপত্তিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে নারায়ণ চন্দ্র (৫০) নামের এক স্কুলশিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। স্থানীয় লোকজনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বুধবার দুপুরে ভাটপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে তাঁকে থানায় নেওয়া হয়।
নারায়ণ চন্দ্র ওই বিদ্যালয়ের ধর্মবিষয়ক শিক্ষক। বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২৫ বছর ধরে তিনি শিক্ষকতা করছেন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার ভাষ্য, নারায়ণ চন্দ্রের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে বিভিন্ন সময়ে ইসলাম ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্যের পোস্ট দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে মাদ্রাসা শিক্ষা ও ইসলাম ধর্মকে ঘিরে একটি ফটোকার্ড প্রকাশ করা হয়েছে বলেও তাঁরা দাবি করেন। পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এরপর বুধবার সকালে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বিদ্যালয়ে গিয়ে ওই শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলতে চান। একপর্যায়ে নারায়ণ চন্দ্র বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের কক্ষে গেলে তাঁকে সেখানে আটকে রাখেন স্থানীয় লোকজন ও শিক্ষার্থীরা। খবর পেয়ে পুলিশ বিদ্যালয়ে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং ওই শিক্ষককে থানায় নিয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কথিত ফটোকার্ডে মাদ্রাসা শিক্ষা সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করা হয়েছে। ফটোকার্ডের নিচে ‘মহিউদ্দিন মোহাম্মদ’ নামটিও উল্লেখ ছিল বলে তাঁরা জানান।
তবে বুধবার নারায়ণ চন্দ্রের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ওই ফটোকার্ডটি খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাঁর অ্যাকাউন্টে ওই দিন সকালে নিজের একটি ছবি পোস্ট করা হয়েছে। এর আগে শিশুদের খেলার একটি ভিডিও এবং জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা জানিয়ে একটি পোস্ট দেখা যায়।
নিজের ছবির সঙ্গে দেওয়া পোস্টে নারায়ণ চন্দ্র জ্ঞান, সত্য ও ধর্ম নিয়ে বিভিন্ন কথা লিখেছেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘সত্যই ধর্ম, আর মিথ্যাই পাপ। তবে যে জ্ঞান ফেতনার সৃষ্টি করে সে জ্ঞান নয়।’
ভাটপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রাবিয়া খাতুন বলেন, নারায়ণ চন্দ্রকে নিয়ে এর আগেও স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল। তখন তাঁকে এ ধরনের পোস্ট না করার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল। নতুন করে অভিযোগ ওঠার পর স্থানীয় লোকজন তাঁকে বিদ্যালয়ে অবরুদ্ধ করলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
চারঘাট থানার ওসি মাহাবুবুর রহমান বলেন, স্থানীয়দের অভিযোগের পর শিক্ষক নারায়ণ চন্দ্রকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা হয়নি। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।