
নিজস্ব প্রতিবেদক : শ্রী সুব্রত দাশ | চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি
আধ্যাত্মিক সাধনা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও ভক্তির আবহে কেন্দ্রীয় তপোবন আশ্রমে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জগৎগুরু পূর্ণব্রহ্ম শ্রীশ্রী পরমহংস মহাযোগী শ্রীমৎ স্বামী সুরেশ্বরানন্দ পুরী গুরুমহারাজের ৯৫তম শুভ আবির্ভাব উৎসব। এ উপলক্ষে আশ্রম প্রাঙ্গণে তিন দিনব্যাপী মহতী ধর্মসভা, অষ্টপ্রহরব্যাপী হরিনাম সংকীর্তন ও শ্রীশ্রী গীতা হোমযজ্ঞসহ বিভিন্ন ধর্মীয় আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
আয়োজকদের সূত্রে জানা যায়, আগামী ৭, ৮ ও ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, অর্থাৎ ২৫, ২৬ ও ২৭ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় তপোবন আশ্রমে এ উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। তিন দিনের এ আয়োজনকে ঘিরে আশ্রমে ধর্মপ্রাণ ভক্ত, শিষ্য, অনুরাগী ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সমাগম হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।
জগৎগুরু পূর্ণব্রহ্ম শ্রীমৎ স্বামী সুরেশ্বরানন্দ পুরী গুরুমহারাজের আধ্যাত্মিক জীবন, সাধনা ও মানবকল্যাণের আদর্শকে স্মরণ এবং তাঁর শিক্ষা ও দর্শনকে ভক্তদের মাঝে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে এ আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, ধর্মীয় চেতনা, নৈতিক মূল্যবোধ ও আধ্যাত্মিক সাধনার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে শান্তি ও মানবিকতার বিকাশ ঘটানোই এ ধরনের আয়োজনের মূল তাৎপর্য।
আর্য ঋষি সনাতনী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও ঋষিগণের বিচরণস্থল হিসেবে পরিচিত কেন্দ্রীয় তপোবন আশ্রমের পুণ্যভূমিতে প্রতিবছরই বিভিন্ন ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক কর্মসূচির আয়োজন হয়ে থাকে। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও গুরুমহারাজের শুভ আবির্ভাব উৎসবকে কেন্দ্র করে আশ্রমজুড়ে ভক্তিময় পরিবেশ সৃষ্টি হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে থাকছে অষ্টপ্রহরব্যাপী শ্রীশ্রী পূর্ণব্রহ্ম হরিনাম সংকীর্তন। এর পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হবে শ্রীশ্রী গীতা হোমযজ্ঞ ও মহতী ধর্মসভা। ধর্মসভায় আধ্যাত্মিকতা, সনাতন ধর্মের আদর্শ, মানবজীবনে ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং গুরুর শিক্ষা ও সাধনার তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা হবে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।
শ্রীমা সুরেশ্বরী দেবী ও ঋষিপুত্র আশ্রমাধ্যক্ষ মহারাজজীর কৃপাপূর্ণ প্রেরণায় এবারের ৯৫তম শুভ আবির্ভাব উৎসবের আয়োজন করা হচ্ছে। উৎসবকে সুষ্ঠু, সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে উৎসব উদযাপন পরিষদ-২০২৬ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।
এ উপলক্ষে উৎসব উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে দেশ-বিদেশের ভক্ত, শিষ্য, অনুরাগী ও ধর্মপ্রাণ সনাতনী সম্প্রদায়ের মানুষকে স্ব-পরিজনসহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য আন্তরিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে উৎসবের সার্বিক সফলতা ও সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করতে সবার আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছেন আয়োজকরা।
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, হরিনাম সংকীর্তনের সুর ও ভক্তদের সমাগমে কেন্দ্রীয় তপোবন আশ্রমের এ তিন দিনব্যাপী আয়োজন পরিণত হবে এক মিলনমেলায় এমন প্রত্যাশাই করছেন উৎসব সংশ্লিষ্টরা।