
নিজস্ব প্রতিবেদক: সত্য সনাতন টিভি || অনলাইন সংস্করণ
সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বয়স্ক ভাতা গ্রহণ করতে এসে নরসিংদী পৌরসভায় এক প্রবীণ ব্যক্তি গুরুতর আহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আহত প্রবীণের নাম লোকনাথ ধর। অভিযোগ অনুযায়ী, পৌরসভার এক কর্মকর্তার কক্ষের দরজায় হাত আটকে তাঁর দুই আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ঘটনাটি এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং সরকারি সেবা গ্রহণে আসা প্রবীণ নাগরিকদের নিরাপত্তা ও মানবিক আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি বয়স্ক ভাতা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করতে লোকনাথ ধর নরসিংদী পৌরসভায় যান। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কক্ষে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাঁকে বাধা দেওয়া হয়। একপর্যায়ে কর্মকর্তা কক্ষের দরজা জোরে বন্ধ করে দিলে প্রবীণের হাত দরজার ফাঁকে আটকে যায়। এতে তাঁর দুই আঙুল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পরে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, প্রবীণ ব্যক্তি দীর্ঘ সময় ধরে ব্যথায় চিৎকার করলেও তাৎক্ষণিকভাবে দরজা খোলা হয়নি। প্রায় ১০ মিনিট পর আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে দরজায় ধাক্কাধাক্কি করলে সেটি খোলা হয়। ততক্ষণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলের মেঝে ও আহত ব্যক্তির পোশাক রক্তে ভিজে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পর নরসিংদী পৌরসভার প্রশাসক আহত প্রবীণের চিকিৎসা সহায়তার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ৫ হাজার টাকা প্রদানের ঘোষণা দেন। তবে হিসাবরক্ষক দপ্তরে নগদ অর্থ না থাকার কারণ দেখিয়ে ওই অর্থ সেদিন দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন এবং পরবর্তী রোববার এসে অর্থ গ্রহণের পরামর্শ দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, রাষ্ট্রের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা নিতে এসে যদি একজন প্রবীণ নাগরিক এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হন, তবে সরকারি সেবা ব্যবস্থার মানবিকতা ও জবাবদিহিতা কোথায়? তারা এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আহত প্রবীণের যথাযথ চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।