
হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সাবেক ট্রাস্টি, চট্টগ্রাম মহানগর ও উত্তর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সভাপতি এবং রাঙ্গুনিয়ার ঐতিহ্যবাহী রাসবিহারী ধামের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বিশিষ্ট সমাজসেবক ও দানবীর রাখাল দাশগুপ্ত আর নেই। তিনি আজ সকালে পরলোকগমন করেছেন। তাঁর মৃত্যুতে রাঙ্গুনিয়াসহ সমগ্র চট্টগ্রামের সনাতনী সমাজে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয়, সামাজিক ও মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে রাখাল দাশগুপ্ত সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেছিলেন। সমাজের নানা সংকটময় সময়ে তিনি ছিলেন একজন নির্ভরযোগ্য অভিভাবক। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, মন্দির ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, শিক্ষা ও মানবিক সহায়তামূলক কর্মকাণ্ডে তাঁর অবদান স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রশংসিত ছিল।
সনাতনী সমাজের সংগঠিত উন্নয়ন এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। চট্টগ্রাম মহানগর ও উত্তর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃত্বে থেকে তিনি ধর্মীয় উৎসবগুলো শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে কাজ করেছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন মন্দির সংস্কার, ধর্মীয় মূল্যবোধ চর্চা এবং নতুন প্রজন্মকে নৈতিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতেও তিনি নিরলস ভূমিকা রাখেন।
রাঙ্গুনিয়ার রাসবিহারী ধামের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে তাঁর অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর উদ্যোগ ও তত্ত্বাবধানে ধামটি ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক চর্চার অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত হয়। স্থানীয় ভক্তদের পাশাপাশি দূরদূরান্ত থেকেও বহু ধর্মপ্রাণ মানুষ সেখানে সমবেত হতেন।
তাঁর মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়লে রাঙ্গুনিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় শোকের আবহ সৃষ্টি হয়। ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং মরহুমের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেছেন। একই সঙ্গে তাঁরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
স্থানীয়রা বলছেন, রাখাল দাশগুপ্তের মৃত্যুতে সনাতনী সমাজ একজন অভিভাবকসুলভ মানুষকে হারাল। তাঁর কর্ম, মানবিকতা ও সমাজসেবামূলক অবদান দীর্ঘদিন মানুষের স্মৃতিতে অম্লান হয়ে থাকবে।