মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০২:২৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
চট্টগ্রামের রথযাত্রায় রাধা-কৃষ্ণের রূপে দুই তরুণী, ভাইরাল ছবি শোকের মধ্যেও থামেনি দায়িত্ব, বাবার পথ ধরে হবিষ্যান্নের পোশাকেই অজগর উদ্ধার করলেন ছেলে চট্টগ্রামে বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদের রথযাত্রা মহোৎসব সাদুল্লাপুরে অর্ধশত কণ্ঠে গীতা পাঠ ও রাধাকৃষ্ণ লীলা কীর্তন হরিদাস চন্দ্রের মুক্তির দাবিতে ঐক্য পরিষদের সমাবেশ ও বিক্ষোভ রথযাত্রার আয়োজন শেষে বন্যার্তদের পাশে বাংলাদেশ হিন্দু ছাত্র মহাজোট বাঁশখালী উপজেলা শাখা বর্ণাঢ্য র‍্যালিতে চট্টগ্রামে রথযাত্রায় বাংলাদেশ হিন্দু ছাত্র মহাজোটের অংশগ্রহণ প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অনন্য কৃতিত্ব: ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেল বরগুনার যমজ তিন বোন রথযাত্রায় তৃষ্ণার্ত পুণ্যার্থীদের হাতে পানির বোতল তুলে দিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী আরমান হোসেন রথযাত্রায় পরিবারের সদস্যরা, বাসায় একা ছিলেন গৃহবধূ; ঝালকাঠিতে মলিনা রায়ের মরদেহ উদ্ধার

ফটিকছড়ির দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে আসা আশুতোষ নাথ এখন যুক্তরাষ্ট্রের গবেষক

  • প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬
  • ৯৮ বার পড়া হয়েছে

 

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির এক দরিদ্র পরিবারে জন্ম আশুতোষ নাথের। অভাব ছিল পরিবারের নিত্যসঙ্গী। জীবিকার সন্ধানে তাঁর পরিবার পরে খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে চলে যায়। বাবা মিলন নাথ ভ্রাম্যমাণ ধানভাঙা মেশিন চালিয়ে কোনোমতে পাঁচ সন্তানের সংসার চালাতেন। সংসারের টানাপোড়েনে সন্তানদের পড়াশোনার খরচ জোগানোও ছিল কঠিন।

 

তবে ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি প্রবল আগ্রহ ছিল আশুতোষের। সেই স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখতে বড় ভূমিকা রাখেন তাঁর বড় ভাই পরিতোষ নাথ। সেলাইয়ের কাজ করে যা আয় করতেন, তার বড় একটি অংশ ব্যয় করতেন ছোট ভাইয়ের পড়াশোনার পেছনে। অন্যদিকে আশুতোষও বাবার কাজে সহায়তা করতেন। সংসারের দায়িত্ব সামলে নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া ছিল তাঁর জন্য কঠিন এক লড়াই। সত্য সনাতন টিভি

 

মানিকছড়ির রানী নিহার দেবী সরকারি উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং গিরী মৈত্রী কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন তিনি। পরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে চট্টগ্রামের হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজে রসায়ন বিভাগে ভর্তি হন।

 

কলেজজীবনেই জীবিকার তাগিদে চকবাজারের একটি কম্পিউটারের দোকানে কাজ শুরু করেন আশুতোষ। কম্পোজ, গ্রাফিকস ডিজাইনসহ বিভিন্ন কাজে দক্ষ হয়ে ওঠেন তিনি। ওই আয় দিয়েই নিজের খরচ চালানোর পাশাপাশি পরিবারকেও সহায়তা করতেন। সত্য সনাতন টিভি

 

স্নাতক তৃতীয় বর্ষে পড়াকালীন সময় অফিস অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে আবেদন করেন। ২০১৬ সালে চাকরি পান ঢাকায়। কিন্তু রাজধানীতে টিকে থাকাও ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। সীমিত বেতনে খরচ সামলাতে হিমশিম খেতে হতো তাঁকে। তাই দিনের চাকরির পাশাপাশি রাতে করতেন ফ্রিল্যান্সিং।

 

এর মধ্যেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন আশুতোষ। পরে কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) স্নাতকোত্তরে পড়ার সুযোগ পান। বুয়েটে পড়ার সময় গবেষণার প্রতি গভীর আগ্রহ তৈরি হয় তাঁর। একের পর এক আন্তর্জাতিক জার্নালে গবেষণাপত্র প্রকাশ করতে শুরু করেন তিনি। সত্য সনাতন টিভি

 

গবেষণার সেই পথই তাঁকে নিয়ে যায় আরও বড় স্বপ্নের দিকে। বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাওয়া অন্য শিক্ষার্থীদের দেখে নিজেও আবেদন করার সাহস পান। অবশেষে পূর্ণ বৃত্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের University of Massachusetts Boston–এ পিএইচডির সুযোগ পান আশুতোষ নাথ।

 

বর্তমানে তিনি সেখানে মেডিসিন ও সিনথেটিক অর্গানিক কেমিস্ট্রি নিয়ে গবেষণা করছেন। পাশাপাশি শিক্ষা সহকারী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। সত্য সনাতন টিভি

 

অভাব, সংগ্রাম আর প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েও থেমে যাননি আশুতোষ। অফিস সহকারী থেকে যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণাগারে পৌঁছানোর এই যাত্রা যেন প্রমাণ করে, পরিশ্রম আর অধ্যবসায়ের কাছে প্রতিকূলতাও একসময় হার মানে।

 

আশুতোষ নাথের গল্প নতুন প্রজন্মের জন্য হতে পারে অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল উদাহরণ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews