চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির এক দরিদ্র পরিবারে জন্ম আশুতোষ নাথের। অভাব ছিল পরিবারের নিত্যসঙ্গী। জীবিকার সন্ধানে তাঁর পরিবার পরে খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে চলে যায়। বাবা মিলন নাথ ভ্রাম্যমাণ ধানভাঙা মেশিন চালিয়ে কোনোমতে পাঁচ সন্তানের সংসার চালাতেন। সংসারের টানাপোড়েনে সন্তানদের পড়াশোনার খরচ জোগানোও ছিল কঠিন।
তবে ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি প্রবল আগ্রহ ছিল আশুতোষের। সেই স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখতে বড় ভূমিকা রাখেন তাঁর বড় ভাই পরিতোষ নাথ। সেলাইয়ের কাজ করে যা আয় করতেন, তার বড় একটি অংশ ব্যয় করতেন ছোট ভাইয়ের পড়াশোনার পেছনে। অন্যদিকে আশুতোষও বাবার কাজে সহায়তা করতেন। সংসারের দায়িত্ব সামলে নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া ছিল তাঁর জন্য কঠিন এক লড়াই। সত্য সনাতন টিভি
মানিকছড়ির রানী নিহার দেবী সরকারি উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং গিরী মৈত্রী কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন তিনি। পরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে চট্টগ্রামের হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজে রসায়ন বিভাগে ভর্তি হন।
কলেজজীবনেই জীবিকার তাগিদে চকবাজারের একটি কম্পিউটারের দোকানে কাজ শুরু করেন আশুতোষ। কম্পোজ, গ্রাফিকস ডিজাইনসহ বিভিন্ন কাজে দক্ষ হয়ে ওঠেন তিনি। ওই আয় দিয়েই নিজের খরচ চালানোর পাশাপাশি পরিবারকেও সহায়তা করতেন। সত্য সনাতন টিভি
স্নাতক তৃতীয় বর্ষে পড়াকালীন সময় অফিস অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে আবেদন করেন। ২০১৬ সালে চাকরি পান ঢাকায়। কিন্তু রাজধানীতে টিকে থাকাও ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। সীমিত বেতনে খরচ সামলাতে হিমশিম খেতে হতো তাঁকে। তাই দিনের চাকরির পাশাপাশি রাতে করতেন ফ্রিল্যান্সিং।
এর মধ্যেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন আশুতোষ। পরে কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) স্নাতকোত্তরে পড়ার সুযোগ পান। বুয়েটে পড়ার সময় গবেষণার প্রতি গভীর আগ্রহ তৈরি হয় তাঁর। একের পর এক আন্তর্জাতিক জার্নালে গবেষণাপত্র প্রকাশ করতে শুরু করেন তিনি। সত্য সনাতন টিভি
গবেষণার সেই পথই তাঁকে নিয়ে যায় আরও বড় স্বপ্নের দিকে। বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাওয়া অন্য শিক্ষার্থীদের দেখে নিজেও আবেদন করার সাহস পান। অবশেষে পূর্ণ বৃত্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের University of Massachusetts Boston–এ পিএইচডির সুযোগ পান আশুতোষ নাথ।
বর্তমানে তিনি সেখানে মেডিসিন ও সিনথেটিক অর্গানিক কেমিস্ট্রি নিয়ে গবেষণা করছেন। পাশাপাশি শিক্ষা সহকারী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। সত্য সনাতন টিভি
অভাব, সংগ্রাম আর প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েও থেমে যাননি আশুতোষ। অফিস সহকারী থেকে যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণাগারে পৌঁছানোর এই যাত্রা যেন প্রমাণ করে, পরিশ্রম আর অধ্যবসায়ের কাছে প্রতিকূলতাও একসময় হার মানে।
আশুতোষ নাথের গল্প নতুন প্রজন্মের জন্য হতে পারে অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল উদাহরণ।