
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় একটি সীমানা প্রাচীর নির্মাণকে কেন্দ্র করে ২৫টি হিন্দু জেলে পরিবারের চলাচলের একমাত্র পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত রাস্তা উন্মুক্ত করা হয়েছে।
শুক্রবার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লিংকন বিশ্বাস জানান, উপজেলার লক্ষ্মীপাশা গ্রামের মালোপাড়ায় দীর্ঘদিনের বিরোধ নিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে একটি ‘শান্তিপূর্ণ’ সমাধানে পৌঁছানো গেছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মঙ্গলবার বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত দীর্ঘ সমঝোতা বৈঠকের পর বিবাদমান পক্ষগুলো রাস্তা খুলে দিতে সম্মত হয়।
বৈঠকে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা এবং উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চুর নির্দেশনা ও জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরদিন সকাল থেকেই প্রাচীর অপসারণ করে পথটি আবার চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। সত্য সনাতন টিভি
রাস্তা ফিরে পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মালোপাড়ার সুশান্ত বিশ্বাস বলেন, একমাত্র চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কয়েকদিন ধরে তারা চরম ভোগান্তিতে ছিলেন। প্রশাসনের উদ্যোগে সমস্যার সমাধান হওয়ায় তারা স্বস্তি পেয়েছেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিরোধপূর্ণ এই জমিটি দীর্ঘদিন ধরে গ্রামের মানুষের চলাচলের পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। জেলে পরিবারের দাবি, ব্রিটিশ আমল থেকেই এটি একটি স্বীকৃত পথ এবং সরকারি নথিতেও রাস্তা হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।
গত ১৬ এপ্রিল পাশের জমির মালিক ব্যারিস্টার দেদার-ই-এলাহী ওই জমিতে প্রাচীর নির্মাণ শুরু করলে মালোপাড়ার সঙ্গে বাইরের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এতে ২৫টি পরিবারের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। কাজকর্মে যেতে না পারা, শিশুদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যাওয়া সব মিলিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়ে বাসিন্দারা।
তবে জমির মালিকের দাবি, প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে তার নিজস্ব জমির ভেতরে এবং ওই অংশ নিয়ে কোনো মামলা নেই। তিনি আরও বলেন, বিকল্প চলাচলের পথ রয়েছে এবং নিরাপত্তাজনিত কারণেই মূলত প্রবেশপথটি বন্ধ করা হয়েছিল। সত্য সনাতন টিভি
এর আগে একই জায়গা নিয়ে একাধিকবার বিরোধ সৃষ্টি হলেও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তা সমাধান হয়েছিল বলে জানা গেছে। সর্বশেষ ঘটনার পর প্রশাসন দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে উভয় পক্ষকে আলোচনায় বসায় এবং সমঝোতার মাধ্যমে চলাচলের পথ পুনরায় খুলে দেয়।
প্রশাসন আশা করছে, এ সমাধানের মাধ্যমে স্থানীয়দের দুর্ভোগ কমবে এবং এলাকায় সামাজিক সম্প্রীতি বজায় থাকবে।