
ভারতে কুসংস্কারের নির্মম শিকার হলেন এক মা ও তার ১০ মাসের শিশু। ডাইনি অপবাদকে কেন্দ্র করে Jharkhand রাজ্যের একটি প্রত্যন্ত আদিবাসী গ্রামে তাদের আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় ইতোমধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটেছে রাজধানী Ranchi থেকে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার দূরের কুদসাই গ্রামে। প্রায় ৫০টি মাটির ঘর নিয়ে গড়ে ওঠা এই গ্রামে আধুনিক চিকিৎসা ও প্রশাসনিক সুবিধা প্রায় নেই বললেই চলে।
গ্রামে সম্প্রতি কয়েকটি গবাদিপশুর মৃত্যু এবং পুস্টুন বিরুয়া নামে এক ব্যক্তির অসুস্থতা ও মৃত্যুকে কেন্দ্র করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। চিকিৎসার অভাব ও দারিদ্র্যের কারণে পরিবার তাকে হাসপাতালে নিতে পারেনি। এর মধ্যেই গুজব ছড়ায়, জ্যোতি সিংকু নামের এক নারী নাকি জাদুটোনা করেন এবং তিনিই এসব ঘটনার জন্য দায়ী।
গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উত্তেজিত একদল গ্রামবাসী জ্যোতির বাড়িতে হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীদের মধ্যে নারী-পুরুষ উভয়ই ছিলেন। কোনো ধরনের তদন্ত বা সালিশ ছাড়াই জ্যোতি ও তার ১০ মাস বয়সী শিশুকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। তাদের রক্ষা করতে গিয়ে গুরুতর দগ্ধ হন জ্যোতির স্বামী কোলহান সিংকু, যিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যা ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি জড়িতদের ধরতে বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি গ্রামে কুসংস্কারবিরোধী সচেতনতা কর্মসূচি চালুর কথাও জানিয়েছে প্রশাসন।
ভারতে ডাইনি সন্দেহে সহিংসতার ঘটনা নতুন নয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত দুই দশকে এ ধরনের অভিযোগে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের অধিকাংশই নারী। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি, দারিদ্র্য এবং সামাজিক অজ্ঞতা এমন ঘটনার পেছনে বড় ভূমিকা রাখে। সত্য সনাতন টিভি
ঝাড়খণ্ডের এই মর্মান্তিক ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি গ্রামীণ সমাজে সচেতনতা ও মানবিক মূল্যবোধ জোরদার না হলে কুসংস্কারের অন্ধকার কাটানো কঠিন।