
মারাঠা সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা ও উপমহাদেশের ইতিহাসে এক প্রভাবশালী শাসক শিবাজী মহারাজ–এর আজ ৩৯৬তম জন্মবার্ষিকী। ১৬৩০ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি মহারাষ্ট্রের শিবনেরি দুর্গে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। দিনটি উপলক্ষে ভারতসহ বিভিন্ন স্থানে ভক্ত-অনুরাগীরা শ্রদ্ধা ও স্মরণ কর্মসূচি পালন করছেন।
ইতিহাসবিদদের মতে, শিবাজীর শৈশব গড়ে ওঠে ধর্মপ্রাণ মাতা জীজাবাঈ–এর স্নেহ ও আদর্শে। রামায়ণ-মহাভারতের কাহিনি ও বীরত্বগাথা তাঁর মানসগঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পিতা শাহজী ভোঁসলে বিজাপুর সুলতানের অধীনে কর্মরত থাকায় ছোটবেলায়ই নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে বড় হতে হয় তাঁকে। সত্য সনাতন টিভি
মাত্র ১৬ বছর বয়সে তোরণা দুর্গ জয় করে সামরিক জীবনের সূচনা করেন শিবাজী। পরবর্তী সময়ে রায়গড়, পুরন্দরসহ একাধিক দুর্গ তাঁর নিয়ন্ত্রণে আসে। পাহাড়ি ভূখণ্ডকে কাজে লাগিয়ে দ্রুত আক্রমণ ও সরে যাওয়ার কৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে তিনি গেরিলা যুদ্ধপদ্ধতির সফল প্রয়োগ ঘটান।
১৬৭৪ সালের ৬ জুন রায়গড় দুর্গে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে তাঁর রাজ্যাভিষেক হয়। ‘ছত্রপতি’ উপাধি ধারণের মধ্য দিয়ে তিনি স্বাধীন মারাঠা শাসনের সূচনা করেন। প্রশাসনিক সংস্কার, নৌবাহিনী গঠন এবং ধর্মীয় সহনশীলতার নীতির জন্যও তিনি ইতিহাসে স্মরণীয়। সত্য সনাতন টিভি
১৬৮০ সালের ৩ এপ্রিল রায়গড়ে মৃত্যুবরণ করেন শিবাজী মহারাজ। তবে তাঁর প্রতিষ্ঠিত মারাঠা শক্তি পরবর্তী কয়েক দশক ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে।
জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন আলোচনা সভা, শোভাযাত্রা ও স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। বক্তারা বলেন, শিবাজীর বীরত্ব, নেতৃত্বগুণ ও আত্মমর্যাদাবোধ নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।