
ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগে ময়মনসিংহের ভালুকায় হিন্দু যুবক দীপু দাসকে পিটিয়ে, গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে এবং পরে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার প্রতিবাদে শরীয়তপুরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। একইসঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর চলমান নির্যাতন, বাড়িঘরে হামলা-মামলা, নারী নির্যাতন, মন্দির ভাঙচুর ও জমি দখলের ঘটনার বিরুদ্ধেও তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। “সত্য সনাতন টিভি”
আজ ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ইংরেজি রোজ মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩ ঘটিকায় শরীয়তপুর জেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট শরীয়তপুর জেলা শাখার আয়োজনে এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে জেলা হিন্দু মহাজোটের সাধারণ সম্পাদক নৃপেন দেবনাথের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ডা. হেমন্ত দাস, জেলা কেন্দ্রীয় মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা হিন্দু মহাজোটের সাবেক আহ্বায়ক সুশীল চন্দ্র দেবনাথ, সাংগঠনিক সম্পাদক গোপাল দত্ত, আইন বিষয়ক সম্পাদক চন্দন দাশ, সদস্য পলাশ রায়, নিরু দাস, রিমন হালদার, টিটু মণ্ডল, জয়ন্ত মণ্ডলসহ আরও অনেকে।
বক্তারা বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে দেশে একের পর এক সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। রংপুরে মুক্তিযোদ্ধা দম্পতি, নরসিংদীতে স্বর্ণ ব্যবসায়ী, ফরিদপুরে মৎস্য ব্যবসায়ী এবং সর্বশেষ ময়মনসিংহের ভালুকায় দীপু দাসকে নৃশংসভাবে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। দিনাজপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সংখ্যালঘু হিন্দুদের বাড়িঘর ও ফসলি জমিতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে।”
সমাবেশে বক্তারা পররাষ্ট্র উপদেষ্টার একটি বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, “ভালুকায় দীপু দাস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংখ্যালঘু নির্যাতনের কোনো সম্পর্ক নেই এমন বক্তব্য আমরা প্রত্যাখ্যান করি। এই বক্তব্য সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর অনুভূতিকে আঘাত করেছে।” সত্য সনাতন টিভি”
বক্তারা দাবি করেন, নিহত দীপু দাস একজন দরিদ্র গার্মেন্টসকর্মী ছিলেন। কর্মক্ষেত্রে দক্ষতার কারণে তিনি সুপারভাইজার পদে পদোন্নতি পান। কিন্তু তার সঙ্গে কর্মরত কয়েকজন সহকর্মীর পদোন্নতি না হওয়ায় ক্ষোভ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়। পরে উসকানির মাধ্যমে একটি জনতাকে সংঘবদ্ধ করে তাকে গার্মেন্টস থেকে তুলে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে—এমন অভিযোগ করেন তারা।
বক্তারা আরও বলেন, “দীপু দাসকে পুড়িয়ে হত্যা শুধু একজন ব্যক্তিকে হত্যা নয়, এটি সংখ্যালঘু হিন্দু সমাজের অস্তিত্বের ওপর সরাসরি আঘাত। একজন মানুষ যে ধর্মেরই হোক, সে মানুষ—এভাবে মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করে উল্লাস সভ্য সমাজে কল্পনাও করা যায় না।” “সত্য সনাতন টিভি”
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী সংখ্যালঘু হিন্দু নারী-পুরুষরা এক কণ্ঠে দীপু দাস হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন এবং তাঁর পরিবারের দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নেওয়ার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে দেশের সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর জানমাল ও ধর্মীয় স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি তোলেন তারা।”সত্য সনাতন টিভি”
সমাবেশ শেষে আয়োজকরা সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান, সংখ্যালঘু হিন্দুদের দুঃখ-দুর্দশার চিত্র দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় এই প্রতিবাদ কর্মসূচির সংবাদ প্রচার করার জন্য।