রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১২:০৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
পটিয়ায় শ্রীশ্রী বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারীর ২৯৬তম আবির্ভাব দিবস উপলক্ষে বিশ্বশান্তি গীতা পুষ্পযজ্ঞ ব্রেন স্ট্রোকে শয্যাশায়ী বিরণ আচার্য্য, চিকিৎসায় প্রয়োজন আর্থিক সহায়তা মীরসরাইয়ে পূজা উদযাপন পরিষদের দ্বিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হিন্দু পরিবারের জমি দখলের অভিযোগে ৪ জনের বিরুদ্ধে থানায় জিডি বাংলাদেশে হিন্দু পরিবারে হামলা নিয়ে ভারতের উদ্বেগ রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা ও হরিনামে মুখর রাঙ্গুনিয়া, ভক্তির আবেশে শেষ হলো ঝুলনযাত্রা বাগেরহাটে, রামপালে সনাতনী স্বেচ্ছাসেবী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বিদ্যাপীঠের উদ্বোধন ভাবগাম্ভীর্য ও সনাতনী ঐতিহ্যে সুরেশ্বরানন্দ পুরী গুরুমহারাজের ৯৫তম শুভ আবির্ভাব উৎসব উদযাপন সনাতন ধর্ম অবমাননা,বুটেক্সের শিক্ষার্থীকে ছয় মাসের জন্য বহিষ্কার নিখোঁজের দুই দিন পর চট্টগ্রাম থেকে উদ্ধার স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাসসহ ৪ জন

“হে ভগবান, ওর পরিবার যেন বজ্রাঘাতে মরে” হিন্দু থেকে মুসলিম হওয়া এক মেয়ের বাবার আর্তচিৎকার

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৩৫৪ বার পড়া হয়েছে

 

ঝিনাইদহ ডিসি কোর্ট প্রাঙ্গণে সম্প্রতি ঘটে গেল এমন একটি মুহূর্ত, যা উপস্থিত প্রত্যেক মানুষকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। আদালতের সামনে আকাশের দিকে দু’হাত তুলে এক বাবার আর্তচিৎকার “হে ভগবান, ওর পরিবার যেন বজ্রাঘাতে মরে” শোনামাত্রই মনে হচ্ছিল যেন কোনো চলচ্চিত্রের দৃশ্য। কিন্তু এটি ছিল বাস্তব, হৃদয় ভেঙে যাওয়া এক পিতার বুকফাটা আহাজারি।

 

এই ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু হরিণাকুন্ডু উপজেলার গোবিনাথপুর গ্রামের গোপাল চন্দ্র শর্মার একমাত্র মেয়ে অন্তি শর্মা। ফেসবুকের মাধ্যমে অন্তির সঙ্গে পরিচয় হয় ঝিনাইদহের শ্রীপুর গ্রামের রাকিব হোসেনের। সেই পরিচয় রূপ নেয় প্রেমে, আর প্রেম এগিয়ে যায় বিয়ের সিদ্ধান্তে। “সত্য সনাতন টিভি”

 

গত ২ অক্টোবর, স্থানীয় মসজিদে এক হুজুরের মাধ্যমে কালেমা পড়ে অন্তি ইসলাম গ্রহণ করেন এবং নতুন নাম নেন হিরা খাতুন মালা। এরপর ১০ অক্টোবর ঝিনাইদহ কোর্টে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে তিন লাখ টাকা কাবিনে বিয়ে সম্পন্ন হয়।

এ ঘটনা জানতে পেরে স্তব্ধ হয়ে যায় অন্তির পরিবার। মেয়েকে ফিরে পাওয়ার আশায় থানায় জিডি করেন তারা। পরে পুলিশ মেয়েকে পরিবারে জিম্মায় দেয়। অন্যদিকে স্ত্রীকে ফেরত পেতে আদালতের দ্বারস্থ হন রাকিব। “সত্য সনাতন টিভি”

 

শুনানির দিন আদালতকক্ষ ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। সবার একটাই প্রশ্ন মালা কোন পথ বেছে নেবেন?

ম্যাজিস্ট্রেট মালাকে প্রশ্ন করেন,

“তুমি বাবার কাছে ফিরবে, নাকি স্বামীর কাছে?”

এক মুহূর্তের নীরবতার পর দৃঢ় কণ্ঠে মালার উত্তর

“আমি স্বামীর বাড়িতে ফিরে যেতে চাই।”

 

তার এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে সঙ্গেই আদালতকক্ষে নেমে আসে গভীর নীরবতা। ম্যাজিস্ট্রেট স্বামীর পক্ষেই রায় প্রদান করলে ভেঙে পড়েন অন্তির বাবা-মা। কোর্ট প্রাঙ্গণে কান্নার রেলমিছিলে পরিণত হয় তাদের অসহায়ের আর্তনাদ। “সত্য সনাতন টিভি”

 

অন্যদিকে মালা স্থিরচিত্তে আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন রাকিব হোসেনের সহধর্মিণী হিসেবে। ধর্ম, সামাজিক প্রথা, পারিবারিক বাঁধন সবকিছুকে ছাপিয়ে তিনি বেছে নেন নিজের ভালোবাসা।

 

কিন্তু যে বাবা-মা তাকে জন্ম দিয়েছেন, লালন-পালন করেছেন, সেই পিতামাতার চোখে মুহূর্তেই যেন অন্ধকার নেমে আসে। তাদের ক্ষত, তাদের হাহাকার সব মিলিয়ে দৃশ্যটি আরও বেদনাবিধুর হয়ে ওঠে।

 

আইনের বিচারে সাবালিকা মেয়ের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। কিন্তু হৃদয়ের আদালতে রায় অনেক সময় ভিন্ন হয়। সেখানে রক্তের সম্পর্কের কাছে প্রেমের জেদ কিংবা ধর্ম পরিবর্তন সবই অনেক বেশি কঠিন ও নির্মম মনে হয়। “সত্য সনাতন টিভি”

 

ঝিনাইদহ আদালত প্রাঙ্গণের সেই দুপুরে, প্রেম জিতেছে, কিন্তু হেরে গেছে এক বাবা-মায়ের স্বপ্ন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews