
ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের বেঙ্গালুরুর দেবরাবিসানাহল্লি এলাকার বেণুগোপাল মন্দিরে ভয়াবহ এক ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার সকালে মন্দিরে ঢুকে ‘আল্লাহু আকবর’ স্লোগান দিতে দিতে প্রতিমা ভাঙচুরের চেষ্টা করে এক যুবক। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
চোখে দেখা প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, সকাল বেলা মন্দিরে প্রবেশ করেই ওই ব্যক্তি উচ্চস্বরে ‘আল্লাহু আকবর’ বলতে থাকে এবং হাতে থাকা পায়ের জুতো খুলে প্রতিমায় হামলার চেষ্টা করে। শুধু তাই নয়, সে মন্দির ভেঙে দেওয়ার হুমকিও দেয়।
মুহূর্তেই মন্দির প্রাঙ্গণে উপস্থিত ভক্ত ও স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে ধরে ফেলেন এবং খুঁটিতে বেঁধে রাখেন। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়। তার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
জানাযায়, অভিযুক্তের নাম মো. কবীর মণ্ডল, যিনি বাংলাদেশি নাগরিক। তিনি অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে কর্ণাটকের ওই এলাকায় চার-পাঁচ বছর ধরে মুচির কাজ করতেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় স্থানীয় থানার পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থা (IB) তদন্তে নেমেছে।
এদিকে, পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনার মন্দিরবাজারের বটতলা এলাকায়ও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে প্রতিমা ভাঙচুরের আরেকটি ঘটনা।
জানা যায়, সোমবার গভীর রাতে স্থানীয় পটুয়া মল্লিকপুর গ্রামের এক পটোদারের ঘরে তৈরি হওয়া একাধিক মা জগদ্ধাত্রী প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়। প্রতিমাগুলির মাথা কেটে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ জানান, “প্রতিবার পুজোর আগে এভাবে প্রতিমা ভাঙচুর করে আমাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা হচ্ছে। প্রশাসন নিশ্চুপ।”
ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ তদন্তে নেমেছে, তবে এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি।
ভারতের দক্ষিণ থেকে পশ্চিমবঙ্গ দুই প্রান্তেই এমন ঘটনায় হিন্দু সমাজের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। মন্দির, প্রতিমা ও পুজো কেন্দ্র করে ধর্মীয় আক্রমণের পুনরাবৃত্তি সামাজিক সম্প্রীতি প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।