
নিজস্ব প্রতিবেদক : জয় দেব নাথ | চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রাচীন কাল ও মধ্যযুগীয় সময়ে মন্দিরকে কেবল পূজার স্থান হিসেবে নয়, বরং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মিলনের কেন্দ্র হিসাবেও ব্যবহার করা হতো। তৎকালীন সমাজে মন্দির ভিত্তিক বিবাহ ছিল ধর্মীয়, সামাজিক এবং নৈতিক নিয়মানুযায়ী সম্পন্ন হওয়া এক শুভ অনুষ্ঠান। বর-কনে মন্দিরে এসে অগ্নি, দেবতা এবং পূজারি-সন্ন্যাসীদের উপস্থিতিতে বিবাহের শপথ গ্রহণ করতেন। এতে কেবল দাম্পত্যের সম্পর্কই স্থাপন হতো না, বরং সম্প্রদায়ের ঐক্য, ধর্মীয় নিয়মকানুনের সম্মান এবং সংস্কৃতির ধারাও সুসংহত হতো। “সত্য সনাতন টিভি”
এরপর উনিশ শতক ও বিশ শতকের শুরুতে উপনিবেশিক প্রভাব ও আধুনিক শিক্ষার কারণে মন্দির ভিত্তিক বিবাহ ধীরে ধীরে কমে যায়। বহু মানুষ তখন কমিউনিটি হল বা বাড়িতে বিবাহ করতে শুরু করে, তারপর ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে থাকে মন্দির ভিত্তিক বিবাহ প্রথা।
সাম্প্রতিক সময়ের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া উপজেলায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী চক্রশালা শ্রীশ্রী লোকনাথ সেবাশ্রমে, বাংলাদেশ গীতা শিক্ষা কমিটি বাগীশিক চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক ও বাংলাদেশ পাঞ্চজন্য গীতাপাঠক ও যন্ত্র শিল্পী সমন্বয় পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির অর্থ সম্পাদক সকলের পরিচিত মুখ বিশিষ্ট গীতাপাঠক শ্রীমান মিশন দত্ত বৈদিক প্রথা অনুযায়ী মন্দির ভিত্তিক বিবাহ করে দৃষ্টান্তর স্থাপন করেছেন। “সত্য সনাতন টিভি
“যদিদং হৃদয়ং মম তদস্তু হৃদয়ং তব” বিবাহের এই শুভ মন্ত্র উচ্চারণের মাধ্যমে গত ০৩ আগষ্ট ২০২৬ ইংরেজি রোজ সোমবার প্রজাপতি ব্রহ্মের আশীর্বাদ নিয়ে, অগ্নি দেবতাকে সাক্ষী রেখে, শাখা, সিন্দুর ও চন্দনের পবিত্রতায় এবং সনাতনী শানাইয়ের সুরে সাতকানিয়া উপজেলার দক্ষিণ ব্রাহ্মণডেঙ্গা এলাকার বাসিন্দা স্বর্গত মাধব দাশগুপ্তা এর মেয়ে শ্রীমতি রিম্পা দাশগুপ্তা’র সাথে তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।
এই সময় বিবাহ অনুষ্ঠানে বর-কনেকে আর্শিবাদ করতে উপস্থিত ছিলেন, চন্দনাইশ লোকনাথ রাম ঠাকুর সেবাশ্রমের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ অজপানন্দ মহারাজ ও শ্রীমৎ রননাথ মহারাজ শ্রীমৎ ওমকার মহারাজ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ গীতা শিক্ষা কমিটি বাগীশিক কেন্দ্রীয়, দক্ষিণ, উপজেলা এবং বিভিন্ন ইউনিয়ন সংসদ এর কর্মকর্তা ও বিভিন্ন কমিটির নেতৃবৃন্দরা।
মন্দির ভিত্তিক বিবাহ অনুষ্ঠানে সারারাতব্যাপী চলে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠ, ভজন, কীর্তন ও ধর্মীয় সংগীত পরিবেশনা। গীতাপাঠ ও ধর্মীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন, বাংলাদেশ পাঞ্চজন্য গীতা পাঠক ও যন্ত্রশিল্পী সমন্বয় পরিষদের কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন উপজেলা শাখার গীতাপাঠক, শোভন রায়, বাবলু রুদ্র,শিমন বসাক, জিত বিশ্বাস (অনুজিত), জয়েল শীল সহ আরো অনেকে।
মন্দির ভিত্তিক বিবাহের মাধ্যমে সনাতনী সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দরা মনে করেন আধুনিকতার নামে কমিউনিটি সেন্টারে বিবাহ প্রথা বাদ দিয়ে মন্দির ভিত্তিক বৈদিক বিবাহ প্রথাকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা জরুরি। তাদের মতে, এই প্রথা ধর্মীয় সংহতি ও ঐক্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বর্তমান সময়ে এসে নতুন প্রজন্মের যুবক-যুবতীরা মন্দির ভিত্তিক বিবাহকে গ্রহণ করে তাদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়কে আরও শক্তিশালী করছে, যা ভবিষ্যতের জন্য ঐতিহ্য রক্ষায় এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে উদ্ভাসিত হচ্ছে।