শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
গোলপাহাড় মহাশ্মশানের নতুন কমিটিতে নেতৃত্বে আর. কে. দাশ রুপু ও রুবেল দে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সরস্বতী জ্ঞান মন্দিরে পঞ্চঘণ্টা স্থাপন ও উদ্বোধন গোলপাহাড় মন্দির কমিটির সব পদ থেকে আয়ান শর্মার পদত্যাগ হরিজন সম্প্রদায়ের প্রথম নারী গ্র্যাজুয়েট সনু রানী দাস বরিশালে সমকাল কার্যালয়ে সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার” চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে ব্যঙ্গের অভিযোগে সাংবাদিকের পোস্ট ভাইরাল মাদ্রাসা নিয়ে পোস্ট, তাতে আটক করা হলো স্কুলশিক্ষক নারায়ণ চন্দ্রকে কৌশিকী অমাবস্যার অন্তর্নিহিত শিক্ষা: অশুভের বিরুদ্ধে শুভশক্তির জাগরণ চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মাতৃদেবী সন্ধ্যা রাণী ধরের পরলোকগমন, শেষ দর্শন থেকে বঞ্চিত ছেলে ছেলের অন্নপ্রাশনে মহানামযজ্ঞের আয়োজন

শোকের মধ্যেও থামেনি দায়িত্ব, বাবার পথ ধরে হবিষ্যান্নের পোশাকেই অজগর উদ্ধার করলেন ছেলে

  • প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬
  • ৭৬ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদন : সত্য সনাতন টিভি || মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

 

মাত্র দুই দিন আগে প্রয়াত হয়েছেন দেশের সুপরিচিত বন্যপ্রাণীপ্রেমী ও বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শীতেশ রঞ্জন দেব। শোকের আবহে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী হবিষ্যান্ন পালন করছিল পরিবার। এমন সময় খবর আসে, শ্রীমঙ্গলের একটি বাড়িতে ঢুকে পড়েছে একটি অজগর। শাস্ত্রীয় বিধিনিষেধ সত্ত্বেও বাবার অসমাপ্ত দায়িত্বকে নিজের দায়িত্ব মনে করে হবিষ্যান্নের পোশাকেই উদ্ধার অভিযানে বেরিয়ে পড়েন তাঁর বড় ছেলে স্বপন দেব সজল।

 

ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৫ নম্বর পুল উত্তর ভাড়াউড়া এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দা যোবায়ের আহমেদের বাড়িতে একটি বড় অজগর সাপ দেখা যায়। পরিবারের সদস্যরা জানান, কয়েক দিন ধরে তাঁদের হাঁস ও মুরগির বাচ্চা রহস্যজনকভাবে হারিয়ে যাচ্ছিল। সকালে হঠাৎ বাড়ির দেয়াল বেয়ে পাশের গাছের দিকে সাপটিকে যেতে দেখে তাঁদের ধারণা হয়, নিখোঁজ হওয়া হাঁস-মুরগির বাচ্চাগুলো সম্ভবত সাপটিরই শিকার হয়েছে।

 

খবর পেয়ে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল, পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ও রিদন গৌড় ঘটনাস্থলে পৌঁছে অজগরটিকে নিরাপদে উদ্ধার করেন। পরে সাপটি শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়।

 

বাড়ির মালিক যোবায়ের আহমেদ বলেন, “অনেকেই সাপটিকে মেরে ফেলার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু আমরা শীতেশ দেবের বাসায় ফোন করি। কিছুক্ষণ পরই তাঁর বড় ছেলে স্বপন দেব সজল এসে সাপটিকে নিরাপদে উদ্ধার করেন। এতে আমরা স্বস্তি পেয়েছি।”

 

উদ্ধার অভিযানের অভিজ্ঞতা জানিয়ে স্বপন দেব সজল বলেন, “বাবা সবসময় বিপন্ন বন্যপ্রাণী রক্ষাকে জীবনের ব্রত হিসেবে নিয়েছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর আমরা হবিষ্যান্ন পালন করছি। শাস্ত্রীয় বিধান অনুযায়ী এ সময় ঘরের বাইরে বের হওয়ার কথা নয়। কিন্তু একটি অজগর বিপদে আছে এই খবর শুনে মনে হয়েছে, এটি বাবারই কাজ। বাবার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই হবিষ্যান্নের পোশাকেই বেরিয়ে এসেছি। আমি ও আমার ভাই যতদিন বেঁচে থাকব, বাবার শুরু করা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের কাজ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করব।”

 

বিশ্ব সাপ দিবসে সংঘটিত এই উদ্ধার অভিযান কেবল একটি অজগরকে রক্ষা করার ঘটনা নয়। এটি প্রয়াত শীতেশ রঞ্জন দেবের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের আদর্শ, দায়িত্ববোধ ও মানবিকতার উত্তরাধিকার নতুন প্রজন্মের হাতে বহমান থাকার এক প্রতীকী ঘটনাও হয়ে উঠেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews