
নিজস্ব প্রতিবেদন : সত্য সনাতন টিভি : অনলাইন সংস্করণ
দায়িত্ব ছাড়ার আগে এক মানবিক উদ্যোগের মাধ্যমে আলোচনায় এসেছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। চা-বাগানের কর্মচারী মঙ্গল দাসের ২০ হাজার টাকার বকেয়া বিদ্যুৎ বিল নিজের উদ্যোগে পরিশোধ করে তাঁর কারামুক্তির ব্যবস্থা করেন তিনি।
জানা গেছে, সিলেট নগরের বিমানবন্দর এলাকার কেওয়াছড়া চা-বাগানের বাসিন্দা বিরাশ দাসের ছেলে মঙ্গল দাস দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুতের বকেয়া বিল পরিশোধ করতে না পারায় আইনি জটিলতায় পড়েন। মাত্র ২০ হাজার টাকার বকেয়া বিলের কারণে গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর থেকে তিনি কারাভোগ শুরু করেন।
পরবর্তীতে কারাগার পরিদর্শনের সময় জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের সঙ্গে মঙ্গল দাসের সাক্ষাৎ হয়। সেসময় নিজের অসহায় অবস্থার কথা জানালে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেন ডিসি। তিনি মঙ্গল দাসকে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন।
এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ১১ মার্চ সিলেটের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ ও বিদ্যুৎ আদালতের বিচারক আনোয়ারুল কবির মঙ্গল দাসের জামিন মঞ্জুর করেন। পরদিন তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান। তবে বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না হওয়ায় একই বছরের ২২ এপ্রিল তাঁর বিরুদ্ধে পুনরায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
পরে গত ১৭ জুন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ পরোয়ানার ভিত্তিতে মঙ্গল দাসকে আবারও গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে।
এ অবস্থায় জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে গত ২১ জুন মঙ্গল দাসের ২০ হাজার টাকার বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা হয়। বিল পরিশোধের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর বিদ্যুৎ আদালতের বিচারক আনোয়ারুল কবির পুনরায় তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন। পরে প্রয়োজনীয় জামিননামা কারাগারে পাঠানো হলে মঙ্গল দাসের মুক্তির পথ সুগম হয়।
বিদ্যুৎ আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. উজ্জ্বল মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আদালতের জামিন আদেশ কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং মুক্তির প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি একজন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাঁর এই উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেবে বলে মনে করছেন অনেকে।