রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:১৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
রংপুরে একই পরিবারের চারজন হত্যাসহ সহিংসতার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল রংপুরের হত্যাকাণ্ডকে রহস্যজনক দাবি করে বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি ঐক্য পরিষদের পটিয়ায় শ্রীশ্রী বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারীর ২৯৬তম আবির্ভাব দিবস উপলক্ষে বিশ্বশান্তি গীতা পুষ্পযজ্ঞ ব্রেন স্ট্রোকে শয্যাশায়ী বিরণ আচার্য্য, চিকিৎসায় প্রয়োজন আর্থিক সহায়তা মীরসরাইয়ে পূজা উদযাপন পরিষদের দ্বিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হিন্দু পরিবারের জমি দখলের অভিযোগে ৪ জনের বিরুদ্ধে থানায় জিডি বাংলাদেশে হিন্দু পরিবারে হামলা নিয়ে ভারতের উদ্বেগ রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা ও হরিনামে মুখর রাঙ্গুনিয়া, ভক্তির আবেশে শেষ হলো ঝুলনযাত্রা বাগেরহাটে, রামপালে সনাতনী স্বেচ্ছাসেবী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বিদ্যাপীঠের উদ্বোধন ভাবগাম্ভীর্য ও সনাতনী ঐতিহ্যে সুরেশ্বরানন্দ পুরী গুরুমহারাজের ৯৫তম শুভ আবির্ভাব উৎসব উদযাপন

যৌতুকের ৪ লাখ টাকা না পেয়ে গৃহবধূকে হত্যা’র অভিযোগ, স্বামী পলাতক

  • প্রকাশিত: বুধবার, ২০ মে, ২০২৬
  • ৮২ বার পড়া হয়েছে

 

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলায় রাজলক্ষ্মী পূরবী (২৫) নামের এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, যৌতুকের দাবিকৃত টাকা না পেয়ে স্বামী চঞ্চল হালদার শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করেছেন। তবে অভিযুক্ত পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যার ঘটনা।

বুধবার (২০ মে) সকালে উপজেলার সিঙারচড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত রাজলক্ষ্মী পূরবী গোসাইরহাট উপজেলার নাগেরপাড়া এলাকার কৃষক সুনীল মণ্ডলের মেয়ে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, প্রায় তিন বছর আগে চঞ্চল হালদারের সঙ্গে পূরবীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময় বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দেওয়ার জন্য তার ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।

নিহতের স্বজনদের ভাষ্য, কোনো স্থায়ী পেশা না থাকায় চঞ্চল প্রায়ই শ্বশুরের কাছ থেকে টাকা নিতেন। সম্প্রতি মালয়েশিয়া যাওয়ার কথা বলে তিনি চার লাখ টাকা দাবি করেন। সেই টাকা আনার জন্য গত মঙ্গলবার পূরবীকে বাবার বাড়ি পাঠানো হয়। কিন্তু দরিদ্র পরিবারের পক্ষে এত টাকা জোগাড় করা সম্ভব হয়নি। পরে খালি হাতেই তিনি স্বামীর বাড়িতে ফিরে আসেন।

পরদিন সকালে ঘরের আড়ার সঙ্গে পূরবীর ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। দ্রুত তাকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর থেকেই স্বামী চঞ্চল হালদার সপরিবারে আত্মগোপনে রয়েছেন।

নিহতের বাবা সুনীল মণ্ডল সত্য সনাতন টিভিকে বলেন, “আমার মেয়ে প্রায়ই ফোন করে বলত, টাকা না দিলে তাকে মারধর করা হয়। আমি গরিব মানুষ, এত টাকা কোথায় পাব? টাকা দিতে না পারায় আমার মেয়েকে মেরে ফেলেছে।”

মা দুলালী রানী বলেন, “আগেও ধারদেনা করে জামাইকে ৭০ হাজার টাকা দিয়েছি। তারপরও তাদের টাকার চাহিদা শেষ হয়নি। শেষ পর্যন্ত টাকার জন্যই আমার মেয়েটাকে হারাতে হলো।”

অন্যদিকে, অভিযুক্তের মা লক্ষ্মী রানী দাবি করেন, বিদেশ যাওয়ার জন্য টাকা চাওয়া হয়েছিল ঠিকই, তবে পূরবী অভিমান করে আত্মহত্যা করেছেন।

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে আনার আগেই পূরবীর মৃত্যু হয়েছিল। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ভেদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাসার বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং পলাতক স্বামীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews