
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলায় রাজলক্ষ্মী পূরবী (২৫) নামের এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, যৌতুকের দাবিকৃত টাকা না পেয়ে স্বামী চঞ্চল হালদার শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করেছেন। তবে অভিযুক্ত পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যার ঘটনা।
বুধবার (২০ মে) সকালে উপজেলার সিঙারচড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত রাজলক্ষ্মী পূরবী গোসাইরহাট উপজেলার নাগেরপাড়া এলাকার কৃষক সুনীল মণ্ডলের মেয়ে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, প্রায় তিন বছর আগে চঞ্চল হালদারের সঙ্গে পূরবীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময় বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দেওয়ার জন্য তার ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।
নিহতের স্বজনদের ভাষ্য, কোনো স্থায়ী পেশা না থাকায় চঞ্চল প্রায়ই শ্বশুরের কাছ থেকে টাকা নিতেন। সম্প্রতি মালয়েশিয়া যাওয়ার কথা বলে তিনি চার লাখ টাকা দাবি করেন। সেই টাকা আনার জন্য গত মঙ্গলবার পূরবীকে বাবার বাড়ি পাঠানো হয়। কিন্তু দরিদ্র পরিবারের পক্ষে এত টাকা জোগাড় করা সম্ভব হয়নি। পরে খালি হাতেই তিনি স্বামীর বাড়িতে ফিরে আসেন।
পরদিন সকালে ঘরের আড়ার সঙ্গে পূরবীর ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। দ্রুত তাকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর থেকেই স্বামী চঞ্চল হালদার সপরিবারে আত্মগোপনে রয়েছেন।
নিহতের বাবা সুনীল মণ্ডল সত্য সনাতন টিভিকে বলেন, “আমার মেয়ে প্রায়ই ফোন করে বলত, টাকা না দিলে তাকে মারধর করা হয়। আমি গরিব মানুষ, এত টাকা কোথায় পাব? টাকা দিতে না পারায় আমার মেয়েকে মেরে ফেলেছে।”
মা দুলালী রানী বলেন, “আগেও ধারদেনা করে জামাইকে ৭০ হাজার টাকা দিয়েছি। তারপরও তাদের টাকার চাহিদা শেষ হয়নি। শেষ পর্যন্ত টাকার জন্যই আমার মেয়েটাকে হারাতে হলো।”
অন্যদিকে, অভিযুক্তের মা লক্ষ্মী রানী দাবি করেন, বিদেশ যাওয়ার জন্য টাকা চাওয়া হয়েছিল ঠিকই, তবে পূরবী অভিমান করে আত্মহত্যা করেছেন।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে আনার আগেই পূরবীর মৃত্যু হয়েছিল। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ভেদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাসার বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং পলাতক স্বামীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।