শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
উখিয়ায় গীতা শিক্ষা নিকেতনের শিক্ষার্থীদের মধ্যে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা বিতরণ গোলপাহাড় মহাশ্মশানের নতুন কমিটিতে নেতৃত্বে আর. কে. দাশ রুপু ও রুবেল দে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সরস্বতী জ্ঞান মন্দিরে পঞ্চঘণ্টা স্থাপন ও উদ্বোধন গোলপাহাড় মন্দির কমিটির সব পদ থেকে আয়ান শর্মার পদত্যাগ হরিজন সম্প্রদায়ের প্রথম নারী গ্র্যাজুয়েট সনু রানী দাস বরিশালে সমকাল কার্যালয়ে সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার” চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে ব্যঙ্গের অভিযোগে সাংবাদিকের পোস্ট ভাইরাল মাদ্রাসা নিয়ে পোস্ট, তাতে আটক করা হলো স্কুলশিক্ষক নারায়ণ চন্দ্রকে কৌশিকী অমাবস্যার অন্তর্নিহিত শিক্ষা: অশুভের বিরুদ্ধে শুভশক্তির জাগরণ চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মাতৃদেবী সন্ধ্যা রাণী ধরের পরলোকগমন, শেষ দর্শন থেকে বঞ্চিত ছেলে

জীবন সায়াহ্নেও থেমে নেই রতন দাদা,এক কাপ রং চায়ের আড়ালে লুকিয়ে আছে সংগ্রামী জীবনের গল্প

  • প্রকাশিত: সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬
  • ১২৫ বার পড়া হয়েছে

 

“দাদা, এক কাপ রং চা হবে?”আবার কখনো তিনি নিজেই হাসিমুখে বলে ওঠেন, “রং চা লাগবে দাদা?”

 

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী সদরের বিভিন্ন অলিগলি, বিপণিবিতান আর দোকানপাটে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শোনা যায় এই পরিচিত ডাক। ডাকটির মানুষটি ৬৫ বছর বয়সী রতন দাদা। বয়সের ভারে শরীর নুয়ে পড়লেও জীবনযুদ্ধে এখনো অদম্য তিনি।

 

বোয়ালখালী উপজেলার স্টাফ কোয়ার্টারসংলগ্ন একটি জরাজীর্ণ পুরোনো বাড়িতে পরিবার নিয়ে বসবাস করেন রতন দাদা। অভাব-অনটন তার নিত্যসঙ্গী। তারপরও কারও কাছে হাত পাতেন না। সংসারের খরচ জোগাতে প্রতিদিন কাকডাকা ভোরে বের হন হাতে চায়ের ফ্লাক্স নিয়ে। সারাদিন ঘুরে ঘুরে বিক্রি করেন রং চা। সত্য সনাতন টিভি

 

বোয়ালখালী সদরের বিভিন্ন মার্কেট, দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে তিনি চা বিক্রি করেন। সকাল থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মাইলের পর মাইল হেঁটে চলেন। তার একমাত্র অবলম্বন হাতে থাকা সেই চায়ের ফ্লাক্স।

 

যে বয়সে অনেকের বিশ্রামে থাকার কথা, সে বয়সেও রতন দাদা বেছে নিয়েছেন আত্মসম্মানের পথ। কঠোর পরিশ্রম আর সততাকেই তিনি জীবিকার মূল ভরসা বানিয়েছেন।

 

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সত্য সনাতন টিভিকে জানান, রতন দাদা শুধু একজন চা বিক্রেতা নন; তিনি পরিশ্রম আর আত্মমর্যাদার প্রতীক। তার আচরণ অমায়িক, কথাবার্তাও বিনয়ী। অনেক সময় তিনি নিজেই দোকানে ঢুকে জিজ্ঞেস করেন, “চা লাগবে?” দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত এই মানুষটিকে এলাকার সবাই ভালোবাসেন।

 

রতন দাদা বলেন, “কষ্ট তো আছেই। কিন্তু কাজ করে খাই, এইডাই শান্তি। সারাদিন শেষে পরিবারের জন্য কিছু নিতে পারলে ভালো লাগে।”

 

দিন শেষে ক্লান্ত শরীরে বাড়ি ফেরেন তিনি। কিন্তু পরিবারের মুখে হাসি দেখলেই যেন ভুলে যান সারাদিনের সব পরিশ্রম। সত্য সনাতন টিভি

 

আজকের সমাজে যখন অনেকেই অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন, সেখানে রতন দাদার জীবন যেন এক নীরব বার্তা দেয় ইচ্ছাশক্তি আর সততা থাকলে বয়স কখনোই বাধা নয়। তার সংগ্রামী জীবন সাধারণ মানুষের কাছেও হয়ে উঠেছে অনুপ্রেরণার এক অনন্য উদাহরণ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews