বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৩:১১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ইতিহাসের আরেকটি অধ্যায়ের অবসান: নোয়াখালীতে ভেঙে ফেলা হলো ৫০০ বছরের প্রাচীন সমাধি-মঠ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে শরীয়তপুরে শুরু হচ্ছে শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা মহোৎসব পেকুয়ায় বন্যার্তদের দ্বিতীয় দফায় শুকনো খাবার বিতরণ আগামীকাল রথযাত্রা, ভক্তদের টানে পথে নামেন জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রা ফরিদপুরে রথযাত্রা ও উল্টো রথযাত্রা উপলক্ষে জেলা পুলিশের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে ইসকনের উদ্যোগে ৯ দিনব্যাপী শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা ‌মহোৎসব শুরু ১৬ জুলাই জয় শ্রী শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর লীলা ক্ষেত্র মন্দির (গ্রুপ)’–এর উদ্যোগে রংপুরের পীরগঞ্জে মহতী শ্রীগীতা দান অনুষ্ঠান টিউশনির বকেয়া টাকা চাইতেই শিক্ষক সিঁথি সীমিতার ওপর নৃশংস হামলা এইচএসসি পরীক্ষা ভালো না হওয়ায় আত্মহত্যা, রাজশাহীতে প্রাণ হারালেন দিশা রানী মহন্ত বয়স্ক ভাতা আনতে গিয়ে প্রবীণের দুই আঙুল বিচ্ছিন্নের অভিযোগ: নরসিংদী পৌরসভায় মানবিকতা নিয়ে প্রশ্ন

পঞ্চগড়ের বোদা থানার পাঁচপীর ইউপির চেয়ারম্যান অজয় রায়ের ওপর সন্ত্রাসী হামলা, গুরুতর আহত।

  • প্রকাশিত: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১২৮ বার পড়া হয়েছে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার পাঁচপীর ইউনিয়নে রাজনৈতিক সহিংসতা উদ্বেগজনক মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে। শুক্রবার রাতে চেয়ারম্যান অজয় কুমার রায়সহ অন্তত ২০ জন আহত হন, যখন স্থানীয় এক নির্বাচনী সভাকে কেন্দ্র করে দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতের ওই সময় পঞ্চগড়‑২ বোদা উপজেলার দেবীগঞ্জ আসনের নির্বাচনী মাঠে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্রার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। জনসাধারণের উপস্থিতি বাড়তে থাকায় দুই পক্ষের মধ্যে বাক্যালাপ ও বিরোধ শুরু হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি হাতাহাতি এবং লাঠিসোঁটা, ধারালো অস্ত্র ও গোলাগুলিতে রূপ নেয়।

এই সহিংসতায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অজয় রায় গুরুতর আহত হন। হামলাকারীরা স্থানীয়দের ঘিরে ধরার পাশাপাশি তাদের বহনকারী গাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে চুরমার করে। অন্যান্য আহতদের মধ্যে চেয়ারম্যান অখিল চন্দ্র শীষ বাবু, স্থানীয় যুবক ও ভোটার রয়েছেন। আহতদের মধ্যে কেউ কেউ গুরুতর অবস্থায় রয়েছেন। স্থানীয় চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা করা হচ্ছে এবং অবস্থা ক্রমাগত পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

চেয়ারম্যান অজয় রায়ের পরিবার ও স্থানীয়রা হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একজন স্থানীয় নেতা বলেন, “এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা স্থানীয় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে। আমরা চাই দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।”
পঞ্চগড়ের স্থানীয় বিএনপি প্রার্থী ফরহাদ হোসেন আজাদ এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “নির্বাচনের মাঠে রাজনৈতিক সহিংসতা কোনভাবেই কাম্য নয়। আক্রান্ত ব্যক্তিদের দ্রুত নিরাপদে চিকিৎসা প্রদান করা এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে পদক্ষেপ নিতে হবে।”
এদিকে, জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্রার্থী সফিউল্লাহ সুফি শান্তি বজায় রেখে নির্বাচনের আয়োজন করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “নির্বাচনের সময় সব পক্ষকে শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে, সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
পুলিশ জানায়, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে। তারা জানিয়েছে, পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি, তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছেন, এই ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধ করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান বাড়িয়েছে।

স্থানীয়রা ভয় প্রকাশ করেছেন যে, এই ধরণের সহিংসতা নির্বাচনী পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তবে আহত চেয়ারম্যান ও অন্যান্যদের চিকিৎসার পাশাপাশি নিরাপত্তা জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় নাগরিকরা আশা করছেন, দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে ভোটারদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews