শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৪:১০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
উখিয়ায় গীতা শিক্ষা নিকেতনের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোট বগুড়া জেলা শাখার প্রধান সমন্বয়কারী হলেন সৌরভ কর্মকার রথযাত্রা উপলক্ষে লক্ষ্মীপুর ইসকন মন্দিরে বাংলাদেশ সনাতন ছাত্র মহাসংঘের জল ও শরবত সেবা বিশ্বকাপের ম্যাচ নিয়ে বাজির পর প্রেমিকের সঙ্গে চলে গেলেন বিবাহিত নারী, ঘুমন্ত অবস্থায় ছিল দুই সন্তান রাউজানে শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের শুভ রথযাত্রা উৎসব উদযাপন ফরিদপুরে ইসকন মন্দিরের উদ্যোগে শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে ইসকনের রথযাত্রায় হিন্দু ছাত্র পরিষদের স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম অনুষ্ঠিত চট্টগ্রামে জাগো হিন্দু পরিষদের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য রথযাত্রা, রাঙ্গুনিয়া থেকে ২৫০ জনের বেশি ভক্তের অংশগ্রহণ হাজারো ভক্তের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশ রামুতে অনুষ্ঠিত হলো রথযাত্রা রথযাত্রায় ‘মহামায়া সেবা কল্প’-এর ধর্মান্তর বিষয়ে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ

কুম্ভমেলায় ২৩ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন মাজারে নিমন্ত্রণ জানালেন শ্রীমৎ স্বামী সচ্চিদানন্দ পুরী মহারাজ।

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১৪৪ বার পড়া হয়েছে

কুম্ভমেলা কেবল একটি ধর্মীয় সমাবেশ নয়, এটি ভারতীয় উপমহাদেশের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য, সাম্প্রদায়িক সৌহার্দ্য ও মানবিক মিলনের এক মহামঞ্চ। সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় আগামী ২৩ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার কোকদণ্ডী ইউনিয়নের ধর্মিষ্ঠান আশ্রমে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ১১ দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক ঋষিকুম্ভ মেলা ২০২৬।
এই মহোৎসবকে ঘিরে ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক সম্প্রীতির বার্তা পৌঁছে দিতে ঋষিধামের মোহন্ত শ্রীমৎ স্বামী সচ্চিদানন্দ পুরী মহারাজ বিভিন্ন ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক পরিমণ্ডলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সৌহার্দ্য বিনিময়ের অংশ হিসেবে একাধিক মাজারে আনুষ্ঠানিক নিমন্ত্রণ প্রদান করেন। তাঁর এই উদ্যোগ সর্বধর্ম সমন্বয় ও মানবিক সহাবস্থানের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

জগৎগুরু শিবকল্পতরু শ্রীমৎ স্বামী অদ্বৈতানন্দ পুরী মহারাজ প্রবর্তিত এই ঋষিকুম্ভ মেলার মূল দর্শন ছিল মানবকল্যাণ ও ভ্রাতৃত্ববোধ প্রতিষ্ঠা। তাঁর জীবদ্দশায় হিন্দু সাধু সন্ন্যাসীদের পাশাপাশি মুসলিম ফকির দরবেশ, সন্ত ও বিভিন্ন মতের সাধক পুরুষদের সঙ্গে গভীর আধ্যাত্মিক সম্পর্ক ও যোগসূত্র বিদ্যমান ছিল। তিনি বিশ্বাস করতেন, আধ্যাত্মিক সাধনার চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো বিভেদ ভুলে মানবতার জয়গান করা। সেই আদর্শ অনুসরণ করেই কুম্ভমেলার মতো সর্বজনীন ধর্মীয় আয়োজনে সকল সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানোর প্রথা চালু হয়।

ঋষিকুম্ভ মেলা মূলত সাধনা, ত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির এক মহোৎসব। ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে দীক্ষাদান অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সমাপ্ত এই মেলায় প্রতিদিন ধর্মীয় সভা, পূজা-পাঠ, সৎসঙ্গ, নামসংকীর্তন, বিশ্বশান্তি কামনায় যজ্ঞ, মহাপ্রসাদ বিতরণ ও ধর্মীয় আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে। এই মেলায় হিন্দু, মুসলিমসহ বিভিন্ন ধর্ম ও মতের সাধকগণ অংশগ্রহণ করে থাকেন যা এই আয়োজনকে সর্বজনীন ও সর্বধর্মীয় রূপ দিয়েছে।

শ্রীমৎ স্বামী অদ্বৈতানন্দ পুরী মহারাজের মানসপুত্র, আধ্যাত্মিক জগতের শিরোমণি শ্রীমৎ স্বামী সুদর্শনানন্দ পুরী মহারাজও তাঁর গুরুর প্রদর্শিত পথ অনুসরণ করে আজীবন এই সম্প্রীতির ধারা বজায় রেখেছেন। তাঁর কর্মজীবনেও বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সেতুবন্ধন রচনার বহু দৃষ্টান্ত রয়েছে।
বর্তমানে ঋষিধামের মোহন্ত শ্রীমৎ স্বামী সচ্চিদানন্দ পুরী মহারাজ সেই মহান আদর্শকে ধারণ করেই ঋষিকুম্ভ মেলা ২০২৬ আয়োজন করছেন। কুম্ভমেলা উপলক্ষে বিভিন্ন মাজারে নিমন্ত্রণ প্রদান তাঁর উদার, মানবিক ও সর্বধর্ম সমন্বয়মূলক দর্শনেরই বাস্তব প্রতিফলন। এই উদ্যোগ আধ্যাত্মিক জগতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও সহাবস্থানের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রশংসিত হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews