বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ০১:৩৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ইতিহাসের আরেকটি অধ্যায়ের অবসান: নোয়াখালীতে ভেঙে ফেলা হলো ৫০০ বছরের প্রাচীন সমাধি-মঠ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে শরীয়তপুরে শুরু হচ্ছে শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা মহোৎসব পেকুয়ায় বন্যার্তদের দ্বিতীয় দফায় শুকনো খাবার বিতরণ আগামীকাল রথযাত্রা, ভক্তদের টানে পথে নামেন জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রা ফরিদপুরে রথযাত্রা ও উল্টো রথযাত্রা উপলক্ষে জেলা পুলিশের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে ইসকনের উদ্যোগে ৯ দিনব্যাপী শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা ‌মহোৎসব শুরু ১৬ জুলাই জয় শ্রী শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর লীলা ক্ষেত্র মন্দির (গ্রুপ)’–এর উদ্যোগে রংপুরের পীরগঞ্জে মহতী শ্রীগীতা দান অনুষ্ঠান টিউশনির বকেয়া টাকা চাইতেই শিক্ষক সিঁথি সীমিতার ওপর নৃশংস হামলা এইচএসসি পরীক্ষা ভালো না হওয়ায় আত্মহত্যা, রাজশাহীতে প্রাণ হারালেন দিশা রানী মহন্ত বয়স্ক ভাতা আনতে গিয়ে প্রবীণের দুই আঙুল বিচ্ছিন্নের অভিযোগ: নরসিংদী পৌরসভায় মানবিকতা নিয়ে প্রশ্ন

খোকন দাস হত্যাকাণ্ডে এক নিমিষে থমকে গেল একটি পরিবারের স্বপ্ন ও সংগ্রাম।

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১৪৯ বার পড়া হয়েছে

 

শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার তিলই গ্রামে নেমে এসেছে গভীর শোক ও অনিশ্চয়তা। ওষুধ ব্যবসায়ী ও বিকাশ এজেন্ট খোকন চন্দ্র দাসের নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পরিবারটির জীবনের সব স্বাভাবিকতা যেন এক মুহূর্তে ভেঙে পড়েছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটিকে হারিয়ে স্ত্রী, তিনটি শিশু সন্তান ও বৃদ্ধ বাবা-মা এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

 

খোকন দাস ছিলেন পরিবারটির প্রধান ভরসা। তার আয়ের ওপরই নির্ভর করত সংসারের প্রতিটি প্রয়োজন খাবার, চিকিৎসা, পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। কিন্তু নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের পর সেই আয়ের পথও বন্ধ হয়ে গেছে। ছোট দোকানটি, যা ছিল পরিবারের শেষ সম্বল, এখন বন্ধ হওয়ার পথে।

 

খোকনের স্ত্রী সীমা রানী দাস একজন গৃহিণী। তাদের তিন সন্তান আকাশ (১৫), বিকাশ (১০) ও আদর (৫)। বাবাকে হারিয়ে শিশুদের ভবিষ্যৎ এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে। কে দেখবে তাদের পড়াশোনা, কে দেবে নিরাপত্তা, কীভাবে চলবে সংসার এই প্রশ্নগুলোই এখন পরিবারটির নিত্যসঙ্গী।

 

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে ঢাকার জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় খোকন দাস মারা যান। পরে রাত ১০টার দিকে নিজ বাড়ির সামনে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়। এর আগে একই দিন বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে লাশবাহী গাড়ি রাত সাড়ে আটটার দিকে তিলই গ্রামে পৌঁছায়। সত্য সনাতন টিভি

 

নিহতের মেঝো বোন অঞ্জনা রানী দাস বলেন, খোকন ছিলেন অত্যন্ত শান্ত ও পরিশ্রমী মানুষ। সংসার চালাতে তিনি দিনরাত খেটে গেছেন, কারও সঙ্গে কখনও বিরোধে জড়াননি। তার তিনটি ছোট সন্তানের ভবিষ্যৎ চিন্তাই এখন পরিবারকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিচ্ছে। সত্য সনাতন টিভি

 

খোকনের পিতা পরেশ চন্দ্র দাস বলেন, ছেলেকে হারিয়ে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। পরিবার নিয়ে সামনে কীভাবে চলবেন, প্রতিদিনের প্রয়োজন মেটাবেন কীভাবে তা ভেবেই তিনি অসহায় বোধ করছেন। সত্য সনাতন টিভি

 

স্ত্রী সীমা রানী দাস কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তার স্বামীকে নির্মমভাবে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। হাসপাতালে তিন দিন ধরে স্বামীর যন্ত্রণাকাতর অবস্থার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, সেই দৃশ্য তার জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ স্মৃতি হয়ে থাকবে।

 

এই হত্যাকাণ্ড শুধু একজন মানুষকে কেড়ে নেয়নি, থামিয়ে দিয়েছে একটি পরিবারের জীবনচাকা। ন্যায়বিচার ও সামাজিক সহায়তা ছাড়া এই পরিবারটির সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ যে কতটা কঠিন, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews