
নিজস্ব প্রতিনিধি: অনলাইন সংস্করণ | সত্য সনাতন টিভি
সিলেটে ইসকন আয়োজিত রাধাষ্টমীর অনুষ্ঠানে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেছেন, বাংলাদেশে প্রত্যেক মানুষের নিজ নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের অধিকার রয়েছে। ধর্ম পালনের ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই, এটাই বাংলাদেশের পরিচয়।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে নগরের ইসকন সিলেট মন্দির প্রাঙ্গণে রাধারাণীর মহাভিষেক শেষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কয়েস লোদী বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বন্ধন, ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতি অটুট রাখতে হবে। বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, সমাজে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় থাকলে মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য আরও দৃঢ় হবে। প্রত্যেকের ধর্মীয় বিশ্বাস ও আচার-অনুষ্ঠান পালনের স্বাধীনতাকে সম্মান করা প্রয়োজন।
রাধাষ্টমী উপলক্ষে ইসকন সিলেট মন্দিরে দিনব্যাপী বিভিন্ন ধর্মীয় কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সকালে ভজন ও কীর্তনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। পরে রাধারাণীর বিশেষ পূজা-অর্চনা, মহাভিষেক, মহিমা কীর্তন ও ধর্মীয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এসব আয়োজনে সিলেটসহ বিভিন্ন স্থান থেকে কয়েক হাজার ভক্ত ও দর্শনার্থী অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইসকন বাংলাদেশের সহ-সভাপতি ও ইসকন সিলেটের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ ভক্তি অদ্বৈত নবদ্বীপ স্বামী মহারাজ। সঞ্চালনা করেন ইসকন সিলেট ইয়ুথ ফোরামের কো-অর্ডিনেটর দেবামৃত নিতাই দাস ব্রহ্মচারী।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইসকন সিলেট মহানগর নামহট্টের সাবেক সভাপতি আদি অনন্ত দাস অধিকারী, ইসকন সিলেট গৃহস্থ কাউন্সিলের সভাপতি সুমঙ্গল গৌর দাস অধিকারী, ইসকন সিলেট বিভাগীয় কমিটির অফিস ব্যবস্থাপনা বিভাগের সম্পাদক সচ্চিদানন্দ শ্যাম সুন্দর দাস, মন্দিরের কমান্ডার দেবেন্দ্র কেশব দাস ব্রহ্মচারী ও ইসকন সিলেট মন্দিরের যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক সিদ্ধ মাধব দাসসহ সংশ্লিষ্টরা।
আলোচনা সভায় বক্তারা রাধাষ্টমীর ধর্মীয় ও শাস্ত্রীয় তাৎপর্য তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে রাধাষ্টমী একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় তিথি। এ উপলক্ষে ভক্তরা রাধারাণীর আরাধনা, কীর্তন, প্রার্থনা ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
দিনব্যাপী আয়োজনে মন্দির প্রাঙ্গণে নারী, পুরুষ ও শিশুদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। অনেক ভক্ত উপবাস ও প্রার্থনায় অংশ নেওয়ার পাশাপাশি কীর্তন ও ধর্মীয় আলোচনা উপভোগ করেন। অনুষ্ঠান শেষে ভক্তদের মধ্যে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়।