
নিজস্ব প্রতিবেদন : কৃষ্ণ মোহন রায় | লালমনিরহাট প্রতিনিধি
বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে লালমনিরহাটে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট ও বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু ছাত্র মহাজোট, লালমনিরহাট জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, কেক কাটা, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বেলুন উড্ডয়ন এবং আলোচনা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, সংগঠক, কর্মী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ধর্মীয় শিক্ষা ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, নৈতিক মূল্যবোধের চর্চা, মানবিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ এবং সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে সংগঠনের ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে কেক কাটা ও বেলুন উড্ডয়ন করা হয়। এরপর অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা ও মতবিনিময় সভা।
সভায় বক্তারা বলেন, একটি সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের দায়িত্ব কেবল সাংগঠনিক কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ধর্মীয় শিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধের প্রসার, তরুণ প্রজন্মকে সচেতন ও দায়িত্বশীল করে গড়ে তোলা, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সমাজে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সহযোগিতা বৃদ্ধি করাও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
আলোচনায় তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ধর্মীয় শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। আন্তঃধর্মীয় সম্পর্ক নিয়ে সমাজে আলোচিত বিভিন্ন বিষয়েও তরুণ-তরুণীদের সচেতনতা, পরিবার ও সমাজের দায়িত্ব এবং তথ্যভিত্তিক আচরণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। বক্তারা গুজব, অপপ্রচার বা উসকানিতে বিভ্রান্ত না হয়ে যেকোনো তথ্য যাচাই করে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানান।
এ ছাড়া সমাজের দরিদ্র, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো, দুর্যোগ ও বিপদের সময়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া এবং মানবিক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন অতিথি ও বক্তারা।
বক্তারা আরও বলেন, মতপার্থক্য থাকলেও বৃহত্তর সামাজিক স্বার্থে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও ঐক্যের পরিবেশ গড়ে তোলা প্রয়োজন। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে ইতিবাচক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করে একটি সচেতন, দায়িত্বশীল ও সহনশীল সমাজ গঠনে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
দুই দশকের পথচলা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নেতৃবৃন্দ ভবিষ্যতে ধর্মীয় শিক্ষা, সামাজিক সচেতনতা, মানবিক সহায়তা এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
উৎসবমুখর ও প্রাণবন্ত পরিবেশে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, সংগঠক ও আমন্ত্রিত অতিথিদের উপস্থিতিতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি সম্পন্ন হয়।