
হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জে অবস্থিত শ্রী চৈতন্য গীতা বিদ্যানিকেতন গতকাল “জয় শ্রী শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর লীলা ক্ষেত্র মন্দির গ্রুপ”-এর উদ্যোগে এক আনুষ্ঠানিক পরিদর্শনের মাধ্যমে মূল্যায়িত হয়। শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের পাঠ্যজ্ঞান যাচাই এবং প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনার উদ্দেশ্যে এ পরিদর্শন অনুষ্ঠিত হয়।
দিনব্যাপী এ কর্মসূচিতে বিদ্যানিকেতনের শিক্ষাকার্যক্রম সরেজমিন পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং শিক্ষার্থীদের শ্লোকপাঠ, মৌলিক ধর্মীয় শিক্ষা ও পাঠ্য অনুশীলনের দক্ষতা মূল্যায়ন করা হয়। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির রেজিস্ট্রার ও প্রশাসনিক নথিপত্রও পর্যালোচনা করা হয়।
পরিদর্শনে সংগঠনের সভাপতি অনুপম দে অর্জুন, সাধারণ সম্পাদক রূপক লাল ধর, উপদেষ্টা শীতল কান্তি শীল, রবি বৈদ্য, সনাতনী লক্ষ্মী ভান্ডার-এর সদস্য চন্দন রায়, অমিত শুক্ল বৈদ্য, জয়দ্বীপ কর, সুবীর পাল, বিপ্লব আচার্য্যসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও মুরুব্বিগণ উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনের শুরুতে বিদ্যানিকেতনের পক্ষ থেকে অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করা হয়। পরে শিক্ষাগুরু রনজিৎ বৈদ্য-এর সঞ্চালনায় আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। ব্যক্তিগত অসুস্থতা থাকা সত্ত্বেও তাঁর নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পরিদর্শনকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
পরিদর্শনকালে শিক্ষার্থীদের পাঠ্য জ্ঞান ও শ্লোকপাঠের দক্ষতা যাচাই করা হয়। পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, কিছু শিক্ষার্থী শ্লোক সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে সক্ষম হলেও অন্যদের ক্ষেত্রে উচ্চারণগত জড়তা ও আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়। একই সঙ্গে কিছু শিক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিতি ও নিয়মিত অনুশীলনের বিষয়ে অসামঞ্জস্য লক্ষ্য করা যায়।
পরিদর্শনকারী দল মনে করে, শিক্ষার্থীদের অগ্রগতির জন্য নিয়মিত উপস্থিতি, গৃহে অনুশীলন বৃদ্ধি এবং অভিভাবকদের আরও সচেতন ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ধর্মীয় শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পরিবার ও প্রতিষ্ঠান—উভয়ের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
এদিকে, পূর্বে উত্থাপিত কিছু বিষয় সরেজমিন পর্যবেক্ষণ ও আলোচনার ভিত্তিতে পর্যালোচনা করা হয়। পরিদর্শন শেষে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাস্তব তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে অধিকাংশ বিষয়ই গঠনমূলক ও সমাধানযোগ্য বলে প্রতীয়মান হয়েছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে সেগুলো নামঞ্জুর করা হয়েছে।
পরিদর্শন শেষে বিদ্যানিকেতনের সভাপতি রনজু বৈদ্য এবং শিক্ষাগুরু রনজিৎ বৈদ্য-এর আন্তরিক আতিথেয়তা ও সহযোগিতার জন্য সংগঠন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও স্থানীয় সহযোগীদের ভূমিকার প্রশংসা করা হয়।
পরিদর্শনকারী দল আশা প্রকাশ করে যে, পারস্পরিক সহযোগিতা, অভিভাবকদের সচেতনতা এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে বিদ্যানিকেতন ভবিষ্যতে আরও উন্নত ও সুসংগঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠবে।
পরিশেষে শ্রী চৈতন্য গীতা বিদ্যানিকেতনের সার্বিক সাফল্য, অগ্রগতি ও কল্যাণ কামনা করা হয়।