
বাংলাদেশ গীতা শিক্ষা পরিষদ (বাগীশিপ)-এর ৩য় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আলোচনা সভা, কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২২ মে ২০২৬) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের জুলাই-বিপ্লব স্মৃতি হলে বাগীশিপের কেন্দ্রীয় কমিটি, চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলা শাখার যৌথ আয়োজনে এ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান বলেন, “সনাতনী ধর্মের কৃতি শিক্ষার্থীরা ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কখনো অবহেলা বা বৈষম্যের শিকার হবে না। সকল ধর্মের মূল শিক্ষা মানবকল্যাণ, সত্যের পক্ষে অবস্থান এবং অন্যায়-অসত্যকে ঘৃণা করা। ধর্মের প্রকৃত মর্মবাণী অনুসরণ করা গেলে সমাজ ও রাষ্ট্র আরও সুন্দর ও শান্তিময় হয়ে উঠবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত সংবর্ধিত শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে তাদের মেধা ও যোগ্যতা দেশের উন্নয়ন ও নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনে কাজে লাগাবে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, যোগ্যতার ভিত্তিতে সরকারি চাকরিতে সনাতনী ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা যথাযথ মূল্যায়ন পাবে এবং ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কেউ বৈষম্যের শিকার হবে না।
বাগীশিপ কেন্দ্রীয় কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক শিপুল দে’র সভাপতিত্বে এবং আবৃত্তিশিল্পী হৈমন্তী শুক্লা মল্লিকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্জ্বলন করেন পূর্ব নাসিরাবাদ আদর্শপাড়া শ্রীশ্রী সন্তোষী মা লোকনাথ সেবাশ্রমের বেনু মহারাজ। পরে জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগরের ১০টি গীতা শিক্ষা কেন্দ্রের প্রায় ১৫০ জন শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে শতাধিক কণ্ঠে গীতাপাঠ অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাগীশিপ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক লায়ন রিমন কান্তি মুহুরী। এছাড়া বক্তব্য দেন বর্ষপূর্তি উদযাপন উপ-পরিষদের আহ্বায়ক সুজন ভট্টাচার্য্য, সদস্য সচিব লায়ন দেবাশীষ দাশ এমজেএফ এবং সমন্বয়কারী লায়ন রুবেল দাশ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি দীপক কুমার পালিত এবং পিস ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস, জিএমআইটির চেয়ারম্যান মো. কামরুল কায়েস চৌধুরী। প্রধান বক্তা ছিলেন বিশিষ্ট ধর্মতত্ত্ববিদ ও সমাজভাবুক অধ্যাপক স্বদেশ চক্রবর্ত্তী।
এসময় বাগীশিপের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, সমাজসেবক ও সনাতনী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত ১৮ জন কৃতি শিক্ষার্থীকে সম্মাননা স্মারক ও শিক্ষা উপকরণ প্রদান করা হয়। সংবর্ধিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অদিতা সেন লিলি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণিমা রাধে, প্রসারী ভট্টাচার্য্য সৃষ্টি, রাহুল মিত্র, শুভ দাশ ও রিমন বিশ্বাস, চুয়েটের অমর্ত্য ঘোষ, অহনা সরকার ও মুগ্ধ দে, বুয়েটের সৌমিত্র বসু, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রাবণ মল্লিক, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের স্বপ্নীল দে, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের পূর্ণিমা শীল, রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অয়ন বিশ্বাস, সিভাসুর মৃত্তিকা চক্রবর্ত্তী, বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির শাশ্বত দাশ অনুরাগ, চট্টগ্রাম নার্সিং কলেজের শ্রাবণী মজুমদার চৈতী এবং চট্টগ্রাম কলেজের পুস্পিতা দত্ত।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে ফিরিঙ্গীবাজার বৃহত্তর চট্টগ্রাম শ্রীশ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারী গীতা শিক্ষা নিকেতনের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় নৃত্যনাট্য ‘মহাকালী তাণ্ডব’ এবং সুরাঙ্গন বিদ্যাপীঠ ও মাধুরী নৃত্যকলা একাডেমির শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। নৃত্যানুষ্ঠান পরিচালনা করেন নৃত্য প্রশিক্ষক হিল্লোল দাশ সুমন ও সূচনা বণিক।
এছাড়া শতাধিক কণ্ঠে গীতাপাঠ পরিচালনা করেন গীতা প্রশিক্ষক রাফি দেওয়ানজী, দিলীপ দাশ, রঞ্জন দাশ, জিশান চক্রবর্ত্তী, নিউটন নাথ ও ওসমিতা দে।