
কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নে ধানক্ষেতে পাতা অবৈধ বৈদ্যুতিক ফাঁদে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে লতিকা বৈদ্য (৪০) নামে এক গৃহবধূর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রোববার সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত লতিকা স্থানীয় বাসিন্দা বরুণ বৈদ্যের স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাশের গ্রামের নিরুদ রায় তাঁর ধানক্ষেতে ইঁদুর দমনের উদ্দেশ্যে পাশের বাড়ি থেকে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে জমির চারপাশে তার টানিয়ে রাখেন। শনিবার সন্ধ্যার পর লতিকা বৈদ্য বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা রাতভর সম্ভাব্য আত্মীয়স্বজনের বাড়ি ও আশপাশের এলাকায় খোঁজ করেও তাঁর সন্ধান পাননি।
রোববার ভোরে কয়েকজন কৃষক জমিতে কাজ করতে গিয়ে ধানক্ষেতের ভেতরে তাঁর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। ধারণা করা হচ্ছে, অন্ধকারে জমির ভেতর দিয়ে চলাচলের সময় তিনি বিদ্যুতায়িত তারে স্পর্শ করলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ফসল রক্ষার নামে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ও বৈদ্যুতিক ফাঁদ ব্যবহারের প্রবণতা সাম্প্রতিক সময়ে আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এসব ফাঁদ বন্যপ্রাণী নিধনের পাশাপাশি মানুষ ও গবাদিপশুর জন্যও বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, এ ধরনের বেআইনি পদ্ধতির বিরুদ্ধে কার্যকর নজরদারি ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।
কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম জানিয়েছেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের কান্না আর ক্ষোভে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কৃষকদের নিরাপদ ও বৈধ পদ্ধতিতে ফসল সুরক্ষায় উদ্বুদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন।