
চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার ৩ নম্বর মির্জাপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত শ্রী শ্রী সীতাকালী মন্দিরে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে কোনো এক সময় এ চুরির ঘটনা ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে মন্দিরের প্রায় সাত লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট হয়েছে বলে দাবি করেছে মন্দির পরিচালনা কমিটি।
মন্দির পরিচালনা পরিষদের সভাপতি অধির চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক রাজু চক্রবর্তী জানান, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পূজার কার্যক্রম শেষ করে পুরোহিত মন্দিরে তালা দিয়ে নিজ বাড়িতে চলে যান। রাতের কোনো এক সময়ে দুর্বৃত্তরা মন্দির প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে। ধারণা করা হচ্ছে, তারা পূর্বপরিকল্পিতভাবে মন্দিরের পাশের রান্নাঘরের টিনের চালা কেটে ভেতরে ঢোকে। পরে রান্নাঘরের পেছনের দরজা খুলে মূল মন্দির অংশে প্রবেশ করে মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যায়।
শুক্রবার সকালে পুরোহিত মন্দিরে এসে প্রধান ফটকের তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করলে চুরির বিষয়টি টের পান। রান্নাঘরের টিনের চালা কাটা এবং ভেতরের জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় দেখে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে পরিচালনা কমিটির সদস্যদের খবর দেন। খবর পেয়ে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ স্থানীয় ভক্তরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
চুরি হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে রান্নাঘরে রাখা দুটি গ্যাস সিলিন্ডার ও একটি চুলা, কালীমূর্তির গলায় ভক্তদের দান করা স্বর্ণ ও রৌপ্যের চেইন, কপালের টিপ, পূজার বিভিন্ন তৈজসপত্র, ঘণ্টা, সোলার প্যানেলের ব্যাটারি, সিসি ক্যামেরার মনিটর ও রেকর্ডিং মেশিন, মাইকের মেশিনসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী। পরিচালনা কমিটির দাবি, এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য সাত লক্ষাধিক টাকা হতে পারে।
মন্দির কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, সিসি ক্যামেরার মনিটর ও যন্ত্রাংশ নিয়ে যাওয়ায় ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ ফুটেজ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে আশপাশের অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সিসি ক্যামেরায় সন্দেহভাজনদের গতিবিধি ধরা পড়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
ঘটনার সংবাদ পেয়ে স্থানীয় ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান জাকির হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পাশাপাশি হাটহাজারী থানার উপপরিদর্শক মো. ছানোয়ার আলম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে গিয়ে চুরি হওয়া মালামালের তালিকা প্রস্তুত করেন এবং আলামত সংগ্রহ করেন। পুলিশ জানায়, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
এ ঘটনায় মন্দিরের ভক্ত ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা দ্রুত চোরদের গ্রেপ্তার ও লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন। মন্দির পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা কিছুটা বেড়েছে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি উঠেছে। তারা রাতের বেলায় টহল বৃদ্ধি এবং সিসি ক্যামেরা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার আধুনিকায়নের আহ্বান জানিয়েছেন।
পুলিশ বলছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।