বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১১:৫২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ইতিহাসের আরেকটি অধ্যায়ের অবসান: নোয়াখালীতে ভেঙে ফেলা হলো ৫০০ বছরের প্রাচীন সমাধি-মঠ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে শরীয়তপুরে শুরু হচ্ছে শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা মহোৎসব পেকুয়ায় বন্যার্তদের দ্বিতীয় দফায় শুকনো খাবার বিতরণ আগামীকাল রথযাত্রা, ভক্তদের টানে পথে নামেন জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রা ফরিদপুরে রথযাত্রা ও উল্টো রথযাত্রা উপলক্ষে জেলা পুলিশের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে ইসকনের উদ্যোগে ৯ দিনব্যাপী শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা ‌মহোৎসব শুরু ১৬ জুলাই জয় শ্রী শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর লীলা ক্ষেত্র মন্দির (গ্রুপ)’–এর উদ্যোগে রংপুরের পীরগঞ্জে মহতী শ্রীগীতা দান অনুষ্ঠান টিউশনির বকেয়া টাকা চাইতেই শিক্ষক সিঁথি সীমিতার ওপর নৃশংস হামলা এইচএসসি পরীক্ষা ভালো না হওয়ায় আত্মহত্যা, রাজশাহীতে প্রাণ হারালেন দিশা রানী মহন্ত বয়স্ক ভাতা আনতে গিয়ে প্রবীণের দুই আঙুল বিচ্ছিন্নের অভিযোগ: নরসিংদী পৌরসভায় মানবিকতা নিয়ে প্রশ্ন

স্বামী হত্যার বিচার চাইতে গিয়ে থানায় হয়রানির অভিযোগ, অস্বীকার ওসির

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১৩৯ বার পড়া হয়েছে

গাইবান্ধায় আইনজীবী সহকারী অমিতাভ চন্দ্র রায় ওরফে সুজন হত্যার বিচার দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে তাঁর স্ত্রী দীপা রানী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন। তবে এসব অভিযোগ ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট’ বলে দাবি করেছেন ওসি।

 

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধনের আয়োজন করে গাইবান্ধা জেলা আইনজীবী সহকারী সমিতি। এতে নিহত সুজনের পরিবারের সদস্য, সহকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন।

 

মানববন্ধনে বক্তব্য দিতে গিয়ে দীপা রানী অভিযোগ করেন, তাঁর স্বামীর হত্যাকাণ্ডে প্রকৃত সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার না করে অজ্ঞাতনামা আসামি দেখিয়ে মামলা নেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে তাঁদের গ্রেপ্তারের দাবি জানালে সদর থানার ওসি তাঁকে ও তাঁর দেবরকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

দীপা রানীর ভাষ্য, ওসি তাঁকে লাথি মারার হুমকি দেন এবং থানায় ডেকে নিয়ে অপমানজনক আচরণ করেন। তিনি বলেন, স্বামীর মৃত্যুর পর অ্যাম্বুলেন্সে কান্নাকাটি করায় তাঁকে কক্ষে ডেকে নিয়ে ‘এগুলো ন্যাকামি কান্না, আমার সামনে চলবে না’ বলে ধমক দেওয়া হয়। এমনকি তাঁদেরই উল্টো অপরাধী বানানোর ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

 

তিনি আরও অভিযোগ করেন, সন্দেহভাজন বিমল কুমারের ছেলে লিমন কুমারকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। স্বামীর হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

 

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সিনিয়র আইনজীবী সহকারী মাজু, আইনজীবী সহকারী আলম ও ছকু এবং জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক হুন্নান হক্কানীসহ অন্যরা। বক্তারা বলেন, অমিতাভ চন্দ্র রায় সুজন হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। হুন্নান হক্কানী বলেন, একজন থানার ওসির কাছ থেকে এমন আচরণ প্রত্যাশিত নয়। তিনি ওসির প্রত্যাহারের দাবিও জানান।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সদর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন মুঠোফোনে বলেন, দীপা রানীর আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

 

এ বিষয়ে গাইবান্ধার পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দিনের সঙ্গে মুঠোফোন ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

গত শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাতটার দিকে গাইবান্ধা সদর উপজেলার বল্লমঝাড় ইউনিয়নের খামার বল্লমঝাড় গ্রামে দুর্বৃত্তদের হামলায় অমিতাভ চন্দ্র রায় (৩৫) নিহত হন। তিনি জেলা জজকোর্টের মুহুরী ছিলেন এবং মৃত নিরঞ্জন চন্দ্র সরকারের ছেলে।

 

পরিবারের দাবি, সম্প্রতি সুজন স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছ থেকে ১১ শতক জমি কিনেছিলেন। প্রতিবেশী বিমল কুমারের ছেলে লিমন কুমার ওই জমি কিনতে না পেরে ক্ষুব্ধ হন। এর আগে জমি নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধ ছিল বলেও পরিবার জানায়। নিহতের মা সিন্দু রানী বলেন, কিছুদিন আগে লিমন সুজনকে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন। তাই হামলার ঘটনায় তাঁর সন্দেহ লিমনের দিকেই।

এ ঘটনায় লিমন কুমার নামে এক প্রতিবেশীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে মামলার অগ্রগতি ও আসামি গ্রেপ্তারের বিষয়ে পুলিশ এখনো পর্যন্ত স্পষ্ট কোনো তথ্য জানায়নি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews