
University of Dhaka-এর জগন্নাথ হলে আয়োজিত বাণী অর্চনা তথা সরস্বতী পূজাকে ঘিরে বিশ্বরেকর্ড গড়ার প্রচেষ্টায় নতুন অগ্রগতি এসেছে। “একটি একক স্থানে সর্বাধিক সংখ্যক সরস্বতী প্রতিমা পূজা” শিরোনামে Guinness World Records-এ আবেদনের অংশ হিসেবে আয়োজকদের হাতে প্রত্যয়নপত্র তুলে দিয়েছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রত্যয়নপত্রে উল্লেখ করা হয়, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে সরাসরি উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানটি পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণ করেন। যৌথভাবে আয়োজনটি সম্পন্ন করে জগন্নাথ হল ইউনিয়ন ও জগন্নাথ হল প্রশাসন। প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, জগন্নাথ হল প্রাঙ্গণের নির্ধারিত একক ভেন্যুতেই পূজা অনুষ্ঠিত হয় এবং সেখানে মোট ৭৬টি সরস্বতী প্রতিমা পূজিত হয়।
প্রত্যয়নপত্রে আরও বলা হয়, প্রতিমা গণনা ও যাচাই প্রক্রিয়া ছিল সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ ও পদ্ধতিগত। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ আয়োজন দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অন্তর্ভুক্তিমূলক চেতনা, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতিফলন ঘটিয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে জমা দেওয়ার প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র হিসেবে এই প্রত্যয়ন জারি করা হয়েছে। এতে স্বাক্ষর করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব দীপক কুমার দেব শর্মা ও শিউলি হরি।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৮ ডিসেম্বর জগন্নাথ হলের সরস্বতী পূজাকে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আবেদন করেন জগন্নাথ হলের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সুদীপ্ত প্রামাণিক। এক ফেসবুক পোস্টে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি জানান, মন্ত্রণালয়ের এ প্রত্যয়ন গিনেসে আবেদনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক দলিল হিসেবে যুক্ত হবে। পাশাপাশি তিনি সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে গিনেস কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত অনুমোদন মিললে জগন্নাথ হলের এ উদ্যোগ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করবে। এতে দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও ধর্মীয় উৎসব বিশ্বপরিসরে নতুন মাত্রায় তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে মনে করছেন।