
তিন দিনব্যাপী শিবচতুর্দশী মেলার তৃতীয় ও শেষ দিন সোমবার চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড চন্দ্রনাথ ধামে দেশ-বিদেশের লাখো সনাতনী পুণ্যার্থীর ঢল নেমেছে।
সোমবার ভোর থেকেই পুণ্যার্থীরা দলবেঁধে ধামে পৌঁছাতে শুরু করেন। মন্দির সড়ক থেকে চন্দ্রনাথ ধামসহ পুরো কলেজ রোড এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে।
পুণ্যার্থীরা প্রথমে ব্যাসকুণ্ডে স্নান করেন, এরপর পায়ে হেঁটে সমতল ভূমি থেকে প্রায় ১,২০০ ফুট ওপরে অবস্থিত চন্দ্রনাথ ধাম মন্দিরের দিকে যাত্রা করেন। আয়োজকরা জানান, সারা বিশ্বের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে চন্দ্রনাথ ধাম একটি গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান। আনুমানিক ৫০০ বছর আগে ফাল্গুন মাসের শিবচতুর্দশী তিথিতে (শিবরাত্রি) মেলার সূচনা হয়।
চন্দ্রনাথ ধাম দর্শনের পাশাপাশি শিবচতুর্দশী তিথিতে দেবাদিদেব মহাদেবের পূজা-অর্চনা করা হয়। সীতাকুণ্ড তীর্থধামের পণ্ডিত রাজীব ভরদ্বাজ জানান, এবারের মেলায় রবিবার বিকেল ৫টা ১৮ মিনিটে শিবচতুর্দশী তিথি শুরু হয়ে সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ২ মিনিটে শেষ হবে।
পুণ্যার্থীরা তিথিতে মঠ-মন্দির দর্শন ও দেবাদিদেব মহাদেবের আরাধনা করবেন।
সীতাকুণ্ড রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার নিজাম উদ্দিন জানান, মেলায় তীর্থযাত্রীদের সুবিধার্থে শুক্রবার বিকেল থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত ছয়টি এক্সপ্রেস ট্রেন সীতাকুণ্ড স্টেশনে দুই মিনিট করে থামছে। এই ট্রেনগুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকা মেইল, মেঘনা এক্সপ্রেস, পাহাড়িকা ও উদয়ন এক্সপ্রেস, বিজয় এক্সপ্রেস এবং মহানগর এক্সপ্রেস।
মেলায় আসা পুণ্যার্থী মন্টু মণ্ডল জানান, তারা রংপুর থেকে রিজার্ভ বাস নিয়ে রবিবার বিকেলে সীতাকুণ্ডে পৌঁছান। সোমবার ভোরে ব্যাসকুণ্ডে স্নান সেরে চন্দ্রনাথ মন্দিরে উঠেন এবং দেবাদিদেব মহাদেবের পূজার্চনা করেন। মেলা শেষ হওয়ার পর তারা পিতৃপুরুষের জন্য তর্পণ ও পিণ্ডদান করবেন।
অন্য পুণ্যার্থী রতন শীল জানান, তারা চকরিয়া থেকে স্বপরিবারে মেলায় অংশগ্রহণ করেছেন। ব্যাসকুণ্ডে স্নান ও চন্দ্রনাথ মন্দির দর্শনের পাশাপাশি দেবাদিদেব মহাদেবের চরণে অর্ঘ্য ও শিবের মাথায় জল ঢালেন।
সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহিনুল ইসলাম বলেন, মেলায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর নিরাপত্তা বজায় রেখেছে। মেলায় পাঁচ শতাধিক পুলিশ সদস্য এবং ১৫টি মোবাইল টিম সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে।
মেলা কমিটির কার্যকরী সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম জানান, পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গতবারের তুলনায় দ্বিগুণ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ছয়টি পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছেন। এছাড়া চিকিৎসক, আনসার ও পুলিশের প্রায় ৫০০ সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে কাজ করছেন।