
নিজস্ব প্রতিবেদক : সত্য সনাতন টিভি | অনলাইন সংস্করণ
রাজশাহীর হেতমখাঁ হরিজন পল্লীর কৃষ্ণা রানী দাস। সামাজিক ও আর্থিক নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে নিজের দক্ষতা, পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাসে গড়ে তুলেছেন ‘প্রিয়ান্সী বিউটি ওয়ার্ল্ড’ নামে একটি বিউটি পার্লার। বর্তমানে তিনি একজন পেশাদার মেকআপ আর্টিস্ট ও উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করছেন।
হেতমখাঁ হরিজন পল্লীর শ্রী রবি ও সুশীলা রানী দম্পতির মেয়ে কৃষ্ণা রানী। তাঁর স্বামী পৃথিবী রাজও তাঁর এই উদ্যোগে সহযোগিতা করছেন। ছোটবেলা থেকেই প্রচলিত পেশার বাইরে গিয়ে নিজের আলাদা পরিচয় গড়ে তোলার স্বপ্ন ছিল কৃষ্ণার। রূপচর্চা ও মেকআপের প্রতি আগ্রহ থেকেই পেশাদার মেকআপ আর্টিস্ট হওয়ার লক্ষ্য ঠিক করেন তিনি।
তবে সেই পথ সহজ ছিল না। বড় কোনো পুঁজি বা নিজস্ব প্রতিষ্ঠান ছাড়াই ঘরে বসে ছোট পরিসরে কাজ শুরু করেন কৃষ্ণা। ভালো মানের মেকআপ সামগ্রীর দাম বেশি হওয়ায় নিজের জমানো টাকা দিয়ে ধীরে ধীরে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহ করেন।
শুরুতে সামাজিক নানা মন্তব্য ও মানুষের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে। নতুন শিল্পী হিসেবে অনেকেই তাঁর কাজে সহজে আস্থা রাখতে চাইতেন না। তবে এসব বাধা তাঁকে থামাতে পারেনি।
গ্রাহকদের আস্থা অর্জনের জন্য শুরুতে অনেক কাজ বিনা পারিশ্রমিকে কিংবা নামমাত্র মূল্যে করেছেন কৃষ্ণা। বুকিং নেওয়া থেকে শুরু করে মেকআপ ও রূপচর্চার কাজ—সবই একাই সামলেছেন। ধীরে ধীরে তাঁর কাজের মান ও দক্ষতার কথা ছড়িয়ে পড়তে থাকে। সত্য সনাতন টিভি
নিজেকে আরও দক্ষ করে তুলতে মেকআপের ওপর প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণও নিয়েছেন কৃষ্ণা। সম্পন্ন করেছেন পেশাদার কোর্স এবং অর্জন করেছেন সনদ। এতে তাঁর কাজের প্রতি গ্রাহকদের আস্থাও বেড়েছে।
কৃষ্ণার এই পথচলায় পরিবারের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বাবা-মা ও স্বামী শুরু থেকেই তাঁর পাশে ছিলেন। তাঁদের উৎসাহ ও সহযোগিতাকে নিজের সাফল্যের অন্যতম শক্তি হিসেবে দেখেন কৃষ্ণা।
বর্তমানে হেতমখাঁ এলাকায় ‘প্রিয়ান্সী বিউটি ওয়ার্ল্ড’ পরিচালনা করছেন তিনি। নিজের কাজের মাধ্যমে যেমন স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করছেন, তেমনি অন্য নারীদেরও নিজেদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে এগিয়ে আসার অনুপ্রেরণা দিচ্ছেন। সত্য সনাতন টিভি
কৃষ্ণা রানী বলেন, “কোনো কনে বা গ্রাহক আমার সাজ পছন্দ করে হাসিমুখে ধন্যবাদ জানালে মনে হয়, আমার ও আমার বাবা-মায়ের স্বপ্ন সত্যি হয়েছে। পেছনের সব কষ্ট তখন সার্থক মনে হয়।”
কৃষ্ণা রানীর গল্প শুধু একজন নারীর উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্প নয়; এটি প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার একটি উদাহরণ। তাঁর এই উদ্যোগ হরিজন পল্লীর নারীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার বার্তা তৈরি করেছে।