
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার পবিত্র তীর্থস্থান চন্দ্রনাথ ধাম–এ উপবাস থেকে টানা ছয় ঘণ্টা দণ্ডী কেটে (দণ্ডপ্রণাম করে) চূড়ায় পৌঁছে চন্দ্র শেখরের দর্শন করলো চট্টগ্রাম রাউজানের ছেলে অন্তু মজুমদার। সম্প্রতি যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে তাঁর দন্ডী কেটে চন্দ্রনাথ ধাম উঠার দৃশ্য ছড়িয়ে পড়লে। মুহূর্তে তা ভাইরাল হয়ে যায়। কেউ কেউ তাঁর মঙ্গল কামনা করেছে। তার জন্য আর্শীবাদ জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সীতাকুণ্ড মেইন গেট থেকে শুরু করে তিনি শুয়ে শুয়ে দাগ কেটে দণ্ডী প্রণাম করতে করতে পাহাড়ের চূড়া পর্যন্ত ওঠেন। পুরো সময়জুড়ে তিনি উপবাসে ছিলেন বলে জানান। প্রায় ছয় ঘণ্টা পর চূড়ায় পৌঁছে চন্দ্রশেখর মহাদেবের দর্শন লাভ করেন। দর্শনের কিছুক্ষণ পর শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি অচেতন হয়ে যান।
পরে সীতাকুণ্ড স্নাইন কমিটির সদস্য ও উপস্থিত ভক্তরা দ্রুত তাঁকে সেবা–শুশ্রূষা করেন। দীর্ঘ চেষ্টার পর তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন। এ সহায়তার জন্য কমিটির সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন অন্তু মজুমদার। সত্য সনাতন টিভি
অন্তু মজুমদার দাবি করেন, “বাংলাদেশে এই প্রথম ছয় ঘণ্টায় দণ্ডী কেটে সীতাকুণ্ড চন্দ্রনাথ ধামে চন্দ্রশেখরের দর্শন করেছি।”
চন্দ্রনাথ পাহাড়ের উচ্চতা প্রায় ১,০২০ ফুট বা ৩১০ মিটার, যা চট্টগ্রাম জেলার অন্যতম উচ্চ স্থান। পাহাড়ে ওঠার দুটি পথ রয়েছে একটি ইকো পার্ক সংলগ্ন সড়কপথ, যেখানে ছোট যানবাহন চলাচল করে; অন্যটি পাহাড়ি সিঁড়ি ও পথ ধরে পায়ে হেঁটে ওঠার ঐতিহ্যবাহী তীর্থপথ। সত্য সনাতন টিভি
ধর্মীয় বিশ্বাস ও মানতের অংশ হিসেবে দণ্ডী কেটে তীর্থ সম্পন্ন করার প্রথা বহু পুরোনো। ভক্তদের মতে, এটি কঠোর সাধনা ও আত্মনিবেদনের প্রতীক।
স্থানীয় ভক্তরা বলেন, “দর্শনের পরও ভাইটির মধ্যে গভীর পূণ্য অনুভূতি দেখা গেছে।”