
৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ইংরেজি রোববার শিব চতুর্দশীর পবিত্র তিথিতে ভারতের মধ্যপ্রদেশের বাগেশ্বর ধাম -এ ৩০০ অসহায় ও অনাথ কন্যার সম্মিলিত বিবাহের আয়োজন করে নজির গড়লেন ভারতীয় ধর্মগুরু ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রী। মানবিক উদ্যোগ ও ধর্মীয় আচার মিলিয়ে এ আয়োজন ইতোমধ্যে ভারতজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সত্য সনাতন টিভি
ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন রাজ্যের দরিদ্র ও অনাথ আশ্রমে বেড়ে ওঠা কন্যাদের নির্বাচন করে এই সম্মিলিত বিবাহের ব্যবস্থা করা হয়। শিব চতুর্দশীর দিনটিকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় পরিবেশে সম্পন্ন হয় বিয়ের সব আচার। কন্যা সম্প্রদান, অগ্নিসাক্ষী, হোম, সিঁদুরদান ও সপ্তপদীসহ বৈদিক রীতিনীতি অনুসরণ করে দম্পতিদের বিবাহ সম্পন্ন করা হয়। সত্য সনাতন টিভি
অনুষ্ঠানের দিন বক্তব্য দিতে গিয়ে ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী বলেন, “আজ থেকে এরা আর অনাথ নয়, আমরা সবাই এদের পরিবার।” তার এই মন্তব্য উপস্থিত অনেকের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করে। আয়োজকদের দাবি, শুধু বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা নয়, নবদম্পতিদের নতুন জীবন শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীও প্রদান করা হয়েছে। প্রত্যেক কন্যাকে দেওয়া হয় পোশাক, অলংকার ও প্রসাধন সামগ্রী। পাশাপাশি সংসার শুরুর জন্য বাসনপত্র, বিছানা ও প্রাথমিক গৃহস্থালি সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। সত্য সনাতন টিভি
ভারতে সম্মিলিত বিবাহের প্রথা নতুন নয়। আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের ওপর বিয়ের ব্যয়ের চাপ কমাতে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন এমন উদ্যোগ নিয়ে থাকে। একাধিক দম্পতির বিয়ে একই মঞ্চে সম্পন্ন হওয়ায় খরচ কমে এবং আয়োজন থাকে নিয়ন্ত্রিত ও সুশৃঙ্খল।
ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাসে বিবাহ কেবল সামাজিক চুক্তি নয়; এটি ধর্ম, দায়িত্ব ও সহযাত্রার এক পবিত্র বন্ধন। সেই প্রেক্ষাপটে শিব চতুর্দশীর মতো তিথিতে এই আয়োজনকে প্রতীকী গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এই সম্মিলিত বিবাহ অনুষ্ঠান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। অনেকেই এটিকে মানবিক উদ্যোগ হিসেবে প্রশংসা করছেন, আবার কেউ কেউ এ ধরনের আয়োজনের দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক প্রভাব নিয়ে আলোচনাও তুলেছেন। সত্য সনাতন টিভি
সব মিলিয়ে, শিব চতুর্দশীর দিনে ৩০০ কন্যার বিবাহ সম্পন্ন করে ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগের নজির স্থাপন করেছেন, যা ধর্মীয় আয়োজনের পাশাপাশি সামাজিক বার্তাও বহন করছে।